image imagewidth (px) 594 2.1k | text stringlengths 1 3.36k |
|---|---|
আমার হাতে এই মুহূর্তে যে কাগজটি আছে খাঁটি বাংলায় তার নাম
তালাকপত্র ।
বুয়ার ভাষায় ডাইফুস লেটার ।
আপনি যহন ব্যাডরুমে ঘুমে ছিলেন, তখন একটা লুক আইস্যা এই
প্যাপারডা দিয়া গ্যালো ।
ময়মনিসংহের মানুষ বাংলা সাহিত্যের বিশাল একটা অংশজুড়ে
দখলদারিত্ব রাখলেও উচ্চারণে বেদখল নিজের মতো। ও-কারকে হ্রস্য
উকার আর এ-কারকে য-ফালা বলতে ... | |
অবাকের শ্রেণিবিচ্ছেদে আমি সপ্তম আসমানে থাকলেও, বুয়া অষ্টম
আসমান থেকে পল্টি খেয়ে পড়লো ।
ওরে আমার আফারে । আপনি শ্যাষম্যাষ....
কথার মাঝখানে বিরক্ত হয়ে আমি চূড়ান্তভাবে বুয়াকে থামালাম ।
তুমি এখন সামনে থেকে যেতে পারো ।
বিষয়টা আসলেই সুস্পষ্ট নয় আমার কাছে ।
আমি ভালোভাবে উল্টেপাল্টে কাগজটা দেখলাম । না কোনো ভুল নেই
কোথাও... | |
মানুষের জীবনে ভালোলাগা, ভালোবাসা কিংবা ভালোথাকা বিষয়গুলো
সবসময় একরকম থাকে না । একটা সময় আমার প্রতি তোমার তীব্র
ভালোলাগায় যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল তা দীর্ঘস্থায়ী ভালো থাকেনি ।
হয়তো আমার দেবার সীমাবদ্ধতা কিংবা বুঝবার স্বল্পতায় তুমি দিন দিন
আমার বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে নিজেকে জড়িয়ে তুলছো অন্য ব্যস্ততায় ।
এদিকে আ... | |
আমি এক থেকে শুরু করে পরপর তিনবার চিঠিটা পড়লাম ।
না, কোথাও ভুল নেই । ভুল শুধু এটুকু যে নবীনা ভেবে নিয়েছে আমার
ব্যস্ততায় সে নেই । কিংবা তার নিঃসঙ্গতায় আমার জড়ানোটুকু অর্থহীন ।
বাদবাকি সব অভিযোগ নির্বাকভাবে মেনে নেবার মতো ।
এই ডিজিটাল যুগে চিন্তাকে দীর্ঘায়িত না করে সরাসরি মোবাইলের
আশ্রয় নিলাম ।
দ্য নাম্বার ইউ কল ক... | |
সাবধান দৌড়াতে গিয়ে দড়ি ছিঁড়ে ফেলো না আবার কিন্তু ।
কথায় কথায় এটা সেটা এলোমেলো উত্তর দিলেও, অনেক কথাই
তখনো স্পষ্ট বুঝতাম না আমরা । দড়ি কী? কীসের দৌড়? কেমন বাঁধা?
আজ বহুদিন পর মনে হতে লাগলো, আসলেই তো জীবনের দৌড়ে
সামনে এগোতে গিয়ে কখন যে দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে গেছে, তা খেয়াল হয়নি
কারও । সংসার জমি চাষ করার যে অতি প্... | |
স্বর্গ কী এতটাই দূরে! মনে হয়নি সেদিন। ওই তো, ওই উপরের
পাহাড়ের দিকে তাকালে ঝরনার যে উৎসমুখটা দেখা যায়, ওইখানেই
পানিতে আছে মেনকা, উর্বশী, রম্ভাদের মতো স্বর্গের অপ্সরাদের দল ।
নতুবা শুধু জলের সামান্য ধারায় এত মোহময়তা!
শেষদিন ঢাকা ফিরে আসবার আগে ঘুরতে গেলাম বনভান্তের বৌদ্ধ
বিহার । সংসারধর্ম ছেড়ে জীবনভর চিরকুমার থাকার... | |
সেন্টমার্টিনের রুক্ষ বালুভূমিতে কী এক অজানা আকর্ষণেই সাতদিন
থেকে গায়ের চামড়া সাদা থেকে পুড়িয়ে পূর্ণ কালোতে পরিণত করে
ফেললাম দুজনে । একেকটা বন্য ঢেউয়ের ধাক্কা খেয়ে জ্যান্ত প্রবালে হাত-পা
কেটে রক্তারক্তি হয়ে গেল কখনো কখনো । সারাটা বিকেল লাল কাঁকড়ার
পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে অবসন্ন নবীনা, সন্ধ্যায় সূর্যডোবার আগে আগেই... | |
কোনো এক অজানা রাজ্য থেকে একটা কাগজ হাতে নিয়ে । আবার বহুদিন
পর হঠাৎ করেই সে চলে গেল আরেকটা কাগজ পৌঁছে দিয়ে । পৃথিবীতে
কাগজের চেয়ে মূল্যবান বস্তু আর কী হতে পারে, যদি তাতে লেখা থাকে
হৃদয়ের সব গহিন শব্দভাণ্ডার!
১৬৮ | |
ডিসেম্বরের বারো তারিখ ।
আমি আর তিতাস গাজীপুর এসেছি ন্যাশনাল পার্কে । কর্মহীন জীবনে
উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা ।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান । ঘন পত্র-পল্লবে পরিপূর্ণ বিশাল বনানী ।
এরই মাঝ দিয়ে এখানে ওখানে হারিয়ে যাবার মতো এলোমেলো মেঠোপথ ।
একটু এগোলেই মনে হয় শেষ । কিন্তু শুরু আবার সেখানেই ।
তিতাস একটা উঁচু টাওয়ার দেখালো ।
চল্ উ... | |
আমি বললাম, আসলেই, জল হতে নেই রে। জল হলে হাওয়ায়
ভাসতে হয় ।
ঠিক বলেছিস, জল হলে সবার চোখে চোখে থেকে সবাইকে কাছে
টেনে দূরে চলে যেতে হয় ।
মনে আছে, আমরা যখন প্রাইমারীতে পড়তাম তখন হঠাৎ দূরে প্লেন
দেখলে দৌড়ে চলে যেতাম ক্লাস ছেড়ে । স্যাররা বেত দিয়ে মেরেও ঢুকাতে
পারতেন না ক্লাসে । ছোট্ট মন অথচ দূরের প্রতি কি বিশাল আগ্রহ ... | |
আমি আর তিতাস রাতের ট্রেনেই কমলাপুর থেকে উঠে পড়ি কুড়িগ্রামের
উদ্দেশ্যে ।
লালমনিরহাট পর্যন্ত আন্তনগর যায় আমাদের। কুড়িগ্রাম থেকে
লালমনিরহাট ত্রিশ কিলোমিটার দূরে । কিন্তু সেখানেই নেমে পড়ি আমরা ।
বাসে চড়তে ইচ্ছে করে না । দম বন্ধ বন্ধ লাগে তিতাসের ।
সোজা হাঁটতে শুরু করি রেললাইন বরাবর । ক্লান্ত হয়ে পড়লে কখনো
এখানে-ওখা... | |
আমি ওর কথা ফেলতে পারি না । পাশের রেলে উঠে পড়ি । কিন্তু
একটু যেতে না যেতেই পিছলে পড়ে যাই ধপাস্ করে ।
তিতাস হাসে, তোর শালার পড়ার অভ্যাস এখানো গেলোনা । কখনো
বাইসাইকেল থেকে, কখনো রেললাইন, কখনো টেবিল ।
দেখ, আমার দু'জন লাগে । আয় হাত ধর । দেখিস বহুক্ষণ থাকতে
পারবো একসাথে ।
তিতাস কাছে আসে । দীর্ঘক্ষণ আমি আর ও হাতে হাত রেখে... | |
অকারণে এখানে ওখানে বসে চা নামের অখাদ্য গরম পানি খেয়ে দীর্ঘক্ষণ
আড্ডা দেই দুইজনে । এটা সেটা হাতে নিয়ে অনেক রাতে কুড়িগ্রাম পৌঁছে
যাই আমরা ।
মাঝরাতে আমাদের দেখে বিরক্ত হয় তিতাসের বোন ।
এইসব কি তিতাস, তোকে না বলেছি আর কোনদিন আসবি না
এখানে!
তৃপ্তিকে দেখতে এলাম আপা ।
তিতাস মাথা চুলকায় ৷
দেখার মতো কী আছে? ও কী চিড়িয়াখা... | |
তোমার নাক বন্ধ
কবি আংকেল মন্দ ।
কবি আংকেল মন্দ ৷
এদফায় আমিও যোগ দেই ওদের সাথে ।
হয়নি, হয়নি
মিল হয়নি ছন্দ ।
আমরা সবাই অন্ধ ।
তৃপ্তি হেসে উঠে । আচ্ছা কবি আংকেল তুমি কি নজরুলকে চেন?
তিতাস পাশ থেকে ইন্টারফেয়ার করে।
অবশ্যই চেনে । ওর বাসায় নতুন কাজের ছেলেটার নাম নজরুল । ইয়া
লম্বা লম্বা চুল আর কি কালো কুচকুচে দাঁত । কে... | |
একটাই । জলিল বিড়ি আর মাছের গন্ধ মিলিয়ে এক অদ্ভুত নেশা তৈরি হয়
মাঝ নদীতে ।
তিতাস আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, বাপরে, রাতের আকাশে
এত তারা দেখা যায়!
আমি মৃদু হাসি। রাত তো তাই । অন্ধকার না হলে আলো দেখবি
কিভাবে!
তিতাস সাজির বিয়ে হয় একটা আলো জ্বলজ্বলে পূর্ণিমার রাতে । একটা
আস্ত চকচকে রূপালী চাঁদ এমন আলো চারপাশে ছড়িয... | |
(মূল কাহিনীর জন্য এই অংশটুকু জরুরী নয় । পাঠক অনায়াসে স্বেচ্ছায় বাদ
দিতে পারেন এটা ।)
আমি মাঝে মাঝে ঘুরতে বের হই । একা একা । কখনও কখনও একটা
লেইস্ চিপস্ নিয়ে সোজা চলে যাই তুরাগের পারে । খাই না । দীর্ঘক্ষণ
হাতে নিয়ে বসে থাকি । উত্তরা থার্ড ফেজের উপর ধরে এয়ারপোর্টের পেছন
দিয়ে প্লেন উড়ে যায় । কারণহীনভাবেই ছোটবেলার ... | |
আমি অনেকদিন ধরে খেয়াল করে দেখছি যে বাড়ির সকলে আমাকে
কিছু দেবার সময় এক চোখোমি করে। বাবা, মা, দাদীমা, ফুপু,
নোটন ভাইয়া, ঝোটন ভাইয়া সবাই। এমনকি বাড়ির কামলা জয়তুনের মা
পর্যন্ত ।
এ অবিচার আজ থেকে না অবশ্য।
আমার ছোটবেলা থেকে এইরকম চলছে।
অথচ সবাই জানে আমার কত বুদ্ধি ! ইসকুলে যাই নে ঠিকমত, ইসকুল
আমার ভাল লাগে না, তবু ক্... | |
এইসব অবিচার বহুদিন থেকে এই তালুকদার বাড়িতে চলে আসছে, কিন্তু
মুখে বললে কেউ স্বীকার করবে না। বরং হা-হা করে তেড়ে আসবে আমার
দিকে ।
আমার একমাত্তর বন্ধু হচ্ছে, এই এলাকার মধ্যে, চুমকি।
চুমকি আমার দূর সম্পর্কের ফুপাতো বোন। ওর মা সালেহা ফুপু হচ্ছে
আমার আপন ফুপুর চেয়েও ভাল। আমাকে খুব আদর করে। আচার খেতে
দেয়। তিলের নাড়ু খেতে ... | |
শোন কথা ! এমন করে বললে কার না ঘেন্না লাগবে ? তবু আমি জিদ করে
বললাম, ‘আর বুকের গোসত, তার বেলায় ?' শুনে চুমকি তক্ষুণি বলল,
‘আরো খারাপ। ময়লা খেতে খেতে হেঁদিয়ে পড়লে মুরগিরা বুক দিয়ে ঠেলে
ঠেলে ওর ভেতরেই জায়গা করে নিয়ে বসে। বসে বসে ঝিমোয়।'
নাঃ, চুমকির সাথে কথায় পারা যায় না। ওর সবটাতে একটা সব জান্তা
ভাব। অথচ দেখ, দা... | |
তোকে খেতে দেয়া, পয়সা দেয়া, সবটাই তো লস্।”
এইজন্যেই আমি চুমকিকে একেবারে দু' চোখে দেখতে পারি নে। মানুষের
মনে এত কষ্ট দিয়ে কথা বলতে পারে যে কি বলব। আর ইংরেজি কথা।
চুমকির বাবা শহরের কলেজে ইংরেজি পড়ায় তো, তাই চুমকি কথায় কথায়
খামোকা ইংরেজি বলে। আর ইংরেজি আমার দু' চোখের বিষ।
এরপরে ওর সঙ্গে আড়ি না দিয়ে আর থাকা যায়, ... | |
আমাদের বাড়িটা অনেক অনেক বড়। গোয়ালঘর, উঠোন, লেবুতলা,
ধানের গোলা, বিচালি রাখার ঘর সব একবার করে পাক দিয়ে
আসতে আমার রোজ অনেক সময় লাগে। আর আমার কখনো রাগ হলে আমি
সবসময় বাড়ির মধ্যে ঘুরঘুর করে ঘুরে বেড়াই আর আপন মনে কথা বলি ।
চুমকির সাথে আড়ি দিয়ে এসে আমি এমনি করে ঘুরে বেড়াচ্ছি, এমন সময়
দেখি নোটন ভাইয়ার সাথে সাথে দু... | |
আমি আজ ইসকুলে যাই নি।
ইসকুল অনেকদিন ধরে বন্ধ। পাকিস্তানি মিলিটারিরা পঁচিশে মার্চে
আমাদের দেশ আক্রমণ করার পর থেকে ইসকুল বন্ধ হয়ে গেছে।
এই একটা খুব ভাল কাজ হয়েছে ! এই ইসকুল বন্ধ। খামোকা সকাল
থেকে হুড়মুড় করে পড়া সেরে, চান সেরে, নাকেমুখে গরম ভাত গিলে
ইসকুলে যাওয়া। তারপর বসে বসে ঝিমোনো। দুপুর একটার মধ্যে সেকেন্ড
স্যার... | |
কোথায় যে আপামনি হারিয়ে গেল। আমি এইসব ভাবছি আর ছেলে দুটো
বাড়ির মধ্যে ঢুকে লাট্টুর মতন চোখ ঘুরিয়ে সেই যে সবকিছু দেখছে তো
দেখছেই।
এরা কাদের বাড়ির ছেলেরা গো ? আমি মনে মনে ভাবলাম। রহস্য
আমার ভীষণ ভাল লাগে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে রহস্যের গন্ধ পেলেই পেট
কেমন গুড়গুড় করে আর নাক চুলকোয় ৷
আমি নাক চুলকোতে চুলকোতে ওদের দিকে... | |
কাছে ডাকছে।
কাছে যেতে খুব মিষ্টি গলায় মা বলল, 'লক্ষ্মী সোনা পায়রা আমার,
মাছগুলো দৌড়ে পুকুরঘাট থেকে ধুয়ে নিয়ে আয়।'
জীবনে কতবার ভেবেছি মায়ের মিষ্টি কথায় কখনো ভুলব না, তবু এমন
করে কথা বললে আমার মাথার মধ্যে সব কেমন ভণ্ডুল হয়ে যায়। মা কোন
কাজ করাবার সময় সবসময় এমনি মিষ্টি করে কথা বলেতো, তাই এও আমার
এক জ্বালাতন।
অ... | |
আমাদের বাড়িটার মেঝে আর দেয়াল সিমেন্টের, কিন্তু মাথায় টিনের
চাল। গ্রামে যে কয় ঘর বড়লোক আছে, তাদের মধ্যে আমরা
একজন। আমাদের চেয়েও বড়লোক অবশ্য লাইলী আপারা। লাইলী আপা
আমাদের পাশের বাড়িতে থাকে।
আমাদের বাড়ির চারদিকে শুধু গাছপালা। পূর্বদিকে তো রীতিমত জঙ্গল।
জঙ্গলের ওপারেই কুলু কুলু স্বরে নদী বয়ে চলেছে।
সন্ধে হতে না হ... | |
দাদীমার বয়স কত আমি জানি নে। চুমকি বলে, একশো। আমার বাবা
দাদীমার শেষ সন্তান। আমার দাদীমার দশ বারোটা ছেলেমেয়ে ছিল, কিন্তু সব
মরে গেছে। শুধু আমার এক ফুপু আর বাবা বেঁচে আছে।
মা বলে, ‘একটু শোকে কাতর, অনেক শোকে পাথর।’ দাদীমা জীবনে
অনেক শোক পেয়েছে তো, তাই সে আবোল-তাবোল কথাবার্তা বলে। আবার
চোখেও দেখে না দাদীমা। কানেও শোনে কম... | |
থাকে সৌদি আরবে। সে অনেক টাকা পাঠায় লাইলী বু’কে, আর লেখাপড়া
করতে বলে!
পঁচিশে মার্চের পর শহর থেকে গ্রামে নিয়ে এসেছে লাইলী বুম্বকে তার
বাবা। ওখানে হোস্টেলে মেয়েরা আর থাকে না, কলেজও বন্ধ, আর খুললেও
লাইলী বু যাবে না বলেছে ।
এই গ্রামে পঁচিশে মার্চের পরপর একবার পাকিস্তানি মিলিটারিরা এসে
উৎপাত করে গেছে, এখন আর করে না। সবাই... | |
তবু লাইলী বুকে সবাই ভালবাসে। যখন এখান থেকে বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছিল
লাইলী বু, তখন ইসকুলের হেড স্যার, সেকেন্ড স্যার বাড়ি বয়ে এসে লাইলী
বু’কে পড়িয়ে দিয়ে যেত, বিনা পয়সায়। এ এক অবাক কাণ্ড ! আমার বেলায়
স্যারদের তিন হাত লম্বা বেত আর লাইলী বু'র বেলায় ছিল -
নাঃ, বেশিক্ষণ কঠিন চিন্তা করলে আমার মাথা গুলিয়ে যায়। আমি তাই... | |
'মুক্তিযোদ্ধা ভায়েরা।' কথাটা শুনে আমার বুক ধক করে উঠল। আমিও
জানি মুক্তিযোদ্ধা ভায়েরা আমাদের দেশ উদ্ধার করার জন্যে প্রাণবাজি রেখে
উঠেপড়ে লেগেছে। আমার নোটন ভাইয়াও রাতের বেলা কাদের সঙ্গে যেন
মাঝে মাঝে কথাবার্তা বলে। আচ্ছা, আমাদের বাড়িতে যে দু'জন পার্টির
উপরে বসে আছে, তারা মুক্তিযোদ্ধা হবে কি না ? কথাটা ভাবতেই বুকটা ধ... | |
ফিরে এসে দেখি সমস্ত বাড়ি, উঠোন, লেবুতলা, গোয়ালঘর নিস্তব্ধ।
একটু আগে মায়ের গলা শুনেছিলাম, কিন্তু মা’ও রান্নাঘরে নেই।
চ্লোর উপরে কি যেন একটা চাপানো হয়েছে, বন্ধ ঢাকনির ভেতর থেকে
সি সি করে একটা শব্দ হচ্ছে।
আমি মাছের ঝুড়ি রান্নাঘরে রেখে সামনে তাকিয়ে দেখি নোটন ভাইয়াদের
যে ঘরটাতে মাদুর বিছিয়ে দিয়েছিলাম, সেই ঘরের দরজা... | |
চেপে ধরে।
আমাকে দরজা ঠেলে ঘরে উঁকি মারতে দেখে, চমকে গিয়ে চোখ গরম
করে বলল, ‘সাড়া না দিয়ে এভাবে ঘরে ঢোকে কেউ ? দেখছিস নে আমি কাজ
করছি ?'
আমি বললাম, ‘বারে, আমি ফিরে দেখি তুমি রান্নাঘরে নেই। আবার
নোটন ভাইয়ার ঘরের দরোজায় শিকল তোলা। মাছ ধুয়ে এনেছি।'
মা শুনে নরম হয়ে বলল, ‘আমি ইচ্ছে করে বাইরে থেকে শিকল তুলে
দিয়েছি যাতে... | |
করগে তো মা, দু' জনের। ফুল তোলা কাচের থালা দুটো বের করে নাওগে
তাকের উপর থেকে।”
এই হয়েছে আমার এক জ্বালা। মা মিষ্টি করে কথা বললে আমি না করতে
পারি নে।
আমি ঘরে এসে মাদুর বিছাতে না বিছোতে ঝোটন ভাইয়া বৃষ্টিতে ভিজে
কোত্থেকে এসে মা'কে বলল,‘মা তাড়াতাড়ি, খুব তাড়াতাড়ি।’
আগুনের তাপে মা'র মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। মা ঢেঁড়স ভাজি, ... | |
মোটা ছেলেটা তাই শুনে বলল, ‘বাঃ বেশ নাম, আর আমার নাম তুমি
শুনবে ?”
“কি নাম ?”
‘লাড্ডু, আমার নাম লাড্ডু। তবে দিল্লীর না, যশোরের। হা, হা, হা।'
ওমা, এ ছেলেটার দেখি হাসাই হচ্ছে অসুখ। তবু লাড্ডু নাম শুনলে কার
না হাসি আসবে, বলো ? আমি তাই হাসতে লাগলাম। আমার সঙ্গে সঙ্গে সবাই
হেসে উঠল ।
মা বড় গামলার মধ্যে লাল মোটা চালের ধোঁয়া ... | |
‘আমাকে লাড্ডু ভাইয়া বলে ডাকবে।'
শুনে আমি চুপ করে রইলাম। যাকে তাকে ভাইয়া বলা আমার অভ্যেস
নেই। তাছাড়া মাও কিছু বলতে বলে নি। লাড্ডু আবার বলল, ‘পায়রা, বোনটি
আমার, আমাকে লাড্ডু ভাইয়া বলে ডাকবে। আজ থেকে তুমি আমার ছোট
বোন, কেমন ?'
আমি হতভম্ব হয়ে লাড্ডুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তখন মন্টু কাছে
এসে মুখ ঝুঁকিয়ে নরম গলায়... | |
এরা সব মুক্তিযোদ্ধা ? ভেবে একেবারে আশ্চর্য হয়ে গেলাম মনে মনে ।
লাইলী বু রাতের বেলা গোপনে যে স্বাধীন বাংলার রেডিও শোনে,
সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা দেখতে কেমন তা কোথাও বলে না। কিন্তু আমার মনে
মনে যে ছবি আছে তাতে তাদের লম্বা চুল, চোখ লাল, মুখভর্তি দাড়িগোঁফ আর
কাঁধে বন্দুক।
অথচ এরা কেউ সেরকম দেখতে না। আর কেমন পেট ভরে হাপুস-হু... | |
মুখে স্বীকার করল না। বলল, “তুই তো একেবারে বোচণ্ডী। যদি সত্যি
সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা হয়, তাহলে এসব ওদের ছদ্মবেশ। যে জামাটা পরে
এসেছিল তার নিচেই কোমরের কাছে ওদের লুকোনো ছিল বন্দুক। স্টেনগান
বা এল.এম.জি না, ছোট্ট পিস্তল। যাতে মাত্তর তিনটে গুলি একসঙ্গে ধরে।
টেম্পোরারি জান বাঁচাবার জন্যে তাই যথেষ্ট।'
আমি জিগ্যেস করলাম, 'তাহলে... | |
চুমকি বলল, “ওরা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের বোন, মা, ফুপু, খালা, শ্বাশুড়ি,
দাদী শ্বাশুড়ি, এইসব। ছেলে হয়ে জন্মালে তবে মুক্তিযোদ্ধা হতে পারতিস।
ড্যাং ড্যাং করে দু'দিন বাদে যাবি শ্বশুরবাড়ি, তোকে মুক্তিযোদ্ধা করবে কে
রে ? শুধু শুধু পয়সার লস্।’
শোন কথা। চুমকির ভাব দেখলে মনে হয়, ও নিজে যেন ছেলে আর আমি
মেয়ে।
আমার রাগ হয়ে গেল ... | |
কিন্তু সে বাড়ি এখন যশোরের বিহারীদের দখলে।
আমরা গিয়ে দেখি লাইলী বু গোসল সেরে, ভাত-টাত খেয়ে, কি একটা
বই হাতে নিয়ে জানালার ধারে বসে চুল শুকোচ্ছে ।
আমাদের দেখে চট্ করে বইটা লুকিয়ে ফেলল। কিন্তু ততক্ষণে আমি
বইটার নাম পড়ে ফেলেছি। ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালী।' কোন্ বাঙালি ?
কোন্ স্বাধীনতা ? আমি মনে মনে ভেবেও কূলকিনারা বের... | |
পারব না ? আলবৎ পারব। মুক্তিবাহিনীতে যোগ না দিলেও মুক্তিযোদ্ধা হওয়া
যায়, তা জানিস ?'
তা জানতাম না। তবু মন খারাপ হয়ে গেল আমার। আমার তো বাড়ি
ছেড়ে বেরোনোই নিষেধ। চুমকিরও। লাইলী বু'দের বাড়ি আমাদের চেয়ে
অনেক ভাল। আমাদের বাড়ির মেয়েদের শুধু ইসকুল ছাড়া আর কোথাও
যাওয়া নিষেধ।
এখন তো ইসকুলও বন্ধ। বেঞ্চি-চেয়ার পর্যন্ত ই... | |
নিজেদের অপকর্মের মাশুল গুণতে হবে এবং কেয়ামতের ময়দানে জবাবদিহি করতে
হবে ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দিন-
(১) মানবতার নজির সৃষ্টি করতে ।
(২) সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি সৃষ্টি করতে ।
(৩) নওমুসলিমদের জন্য গ্রহণযোগ্য অবদান রাখতে ।
(৪) উদারতা, ন্যায়পরায়ণতা, সৃজনশীলতা, পরিপূর্ণ পবিত্রতা আয়ত্ত করতে ।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন... | |
আত্মীয়তার বন্ধন
আত্মীয়তার প্রত্যয়টি মানব সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । আত্মীয়তার বন্ধন
অটুট থাকলে একটা সুস্থ সামাজিক পরিবেশে মানুষ বসবাস করতে সক্ষম হয় ।
অন্যথায় সমাজে মস্তিষ্ক বিকৃতির মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে । একশত
কোটি মানুষের দেশ ভারতে ষাট লক্ষ মানসিক রোগী । আমাদের বাংলাদেশ ভারতের
প্রতিবেশী দেশ । ... | |
নিঃস্ব পরিবার অগাধ সম্পদের মালিক হয়ে গেছে । এই যে যেকোনভাবেই হোক তারা
সম্পদের মালিক হয়েছেন এই সম্পদের প্রতি শরিয়ত মোতাবেক শুধু মুসলমান আত্মীয়
স্বজনের অধিকারই বর্তায়নি, বরং আমাদের বিধর্মী প্রতিবেশীদেরও অধিকার বর্তেছে ।
শুধু তাই নয়, সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য জীবজন্তুও মালিকানা হস্তগত করেছে । এটা আল্লাহর
আইন । এটাকে লংঘন... | |
শিকার হবেন না । অপমানিত হবেন না। যদি গরিব আত্মীয়স্বজন ধনী আত্মীয়স্বজন
বাড়িতে বৌ ছেলেমেয়ে নিয়ে বেড়াতে যেয়ে এহেন তাচ্ছিল্যের শিকার হন তখন ঐ
গরিব পরিবারের কর্তা ব্যক্তিটি মারাত্মক ভিষন্নতার শিকার হবেন । যেমন-
(১) ঐ বিব্রতকর ব্যক্তিটি তার স্ত্রী কর্তৃক উঠতে বসতে গঞ্জনার শিকার হবেন ।
(২) ছেলেমেয়েদের নিকট পিতার মাথা ... | |
ঈদ
ঈদ অর্থ খুশি, আনন্দ, উৎসব । মুসলানদের জন্য দুইটি ঈদ নির্দিষ্ট । এতে কোন
মত পার্থক্য নেই । এই দুইটি ঈদ নিয়েই আমি আলোচনা করতে চাই । এই যে ঈদ
আসছে ঈদ যাচ্ছে বা বাংলাদেশের মুসলমানগণ ঈদ করছেন তা কি বাঙ্গালী
মুসলমানের মধ্যে কোন খুশীর জোয়ার বয়ে আনছে! যদি খুশীই আসবে তবে দরিদ্র
আর নিরন্ন মানুষের ঘরে কান্না কেন? কেন অসহায়... | |
(১) গরিব রোজাদারদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে যে সন্তুষ্টি আসবে তা
মুসলমানের মধ্যে ঈদের আমেজ দৃষ্টি করবে ।
(২) নিজেরা ঈদের জন্য নতুন কাপড় না কিনে গরিব মুসলমানদেরকে পোশাক
বিলানো যাতে মনে সন্তুষ্টি এসে ঈদের আমেজ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ আনন্দাশ্রু
মুসলমানকে পরিশুদ্ধ করে ঈদ এনে দেবে ।
(৩) গরিব মানুষের সন্তানরা লেখাপড়ার খরচ জো... | |
(৫) ব্যবসায়ীদের জান ও মাল হুমকির সম্মুখীন হবে ।
ঈদের দিন সকল মুসলমানের হাসার কথা। কিন্তু গরিব মুসলমানের চেহারার হাসি
ফুটে না । অপারগ হয়ে চেহারায় একটা হাসি হাসি ভাব অতিকষ্টে ফুটিয়ে তোলেন ।
ধনাঢ্য ব্যক্তিদের চাকচিক্য আর অহংকার গরিবের সমস্ত আনন্দকে মাটি করে দেয়।
এই চাকচিক্য আর অহংকারের জন্য আল্লাহ তায়ালা রসুলে মকবুল... | |
মনের চাইতে বড় কাবা হতে পারে না। কারণ কোরআনুল করিমে আল্লাহ পাক
বলেছেন- আমি মানুষের নফসের মধ্যে বসবাস করি। সুতরাং আল্লাহকে বেজার করে
কাবা দর্শনের অর্থ কি? প্রতিটি মুসলমানের মধ্যে মা আয়েশার খাসালত থাকতে হবে ।
বিপদ মুহূর্তে তিনি আল্লাহর উপর ধৈর্য্য ধরেছিলেন। আর আল্লাহতায়ালা আয়াত
নাজিল করলেন-
ফা সাবরুন জামিলুন ।
আল্লাহু... | |
ক্ষুদ্রঋণ
ক্ষুদ্র ঋণের সংজ্ঞা কি? তা বড় কথা নয়, আসলে ক্ষুদ্র ঋণ অর্থে সামাজিক
উন্নয়নে কতটা অবদান রাখছে সেটাই হলো বড় কথা। ক্ষুদ্র ঋণ যে সকল প্রতিষ্ঠান
প্রদান করছেন । মিডিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায় যে, তারা কিন্তু লাভবানই
হচ্ছেন । আরো উল্লেখ করতে হয় । দাতাগোষ্ঠী কিন্তু তাদের উপর বেজায় সন্তুষ্ট। সে
অনুপাতে আ... | |
কেন আসলে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা এদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন সফল হচ্ছেন না এর
কতগুলো কারণ আছে । যেমন-
(১) তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় ।
(২) অনেকেই ঋণের টাকা আন প্রডাক্টটিভ খাতে ব্যয় করে ফেলেন ।
(৩) ভিন্ন খাতে ঋণের অর্থ ব্যয়ের পর তা উদ্ধারের কোন বিকল্প খাত তাদের
অনেকেরই থাকে না ।
(৪) এদের মধ্যে কারো কারো জুয়া খেলা, নেশায় ... | |
জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ । ন্যূনতম শিক্ষা এবং একটি অথরিটি । এই অথরিটি
হতে পারে আঞ্চলিক সরকার। এর জন্য চাই সহমর্মিতা, দেশাত্ববোধ এবং সর্বোপরি
মানুষ মানুষের জন্য চিন্তা ধারণাটি ।
আঞ্চলিক সরকার
সর্বদা ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাও আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সংযোগ ছাড়া
দেউলিয়াপনা থেকে বাচার আর কোন বিকল্প নেই এখানে। দরকার মাসিক
কর্... | |
ফলজ উদ্ভিদ
ফলজ উদ্ভিদ বিভিন্ন কারণে অন্যান্য বৃক্ষ হতে অধিক অর্থকরী । ফলজ উদ্ভিদ ফল
দেয় যা আমাদের খাদ্য, ফলজ উদ্ভিদ দেয় জ্বালানী কাঠ । ফলজ উদ্ভিদ দেয়
ফার্ণিচারের কাঠ । আমরা যে হারে বিদেশী ব্যাংকগুলোর কাছে ঋণী তাতে আমাদের
মর্যাদা সর্বদাই ক্ষুন্ন হচ্ছে। যে কোনভাবে আমাদের বৈদেশিক ঋণ চুকিয়ে স্বাবলম্বী
হওয়া জরুরী । আমা... | |
হয় না । ঐ সমস্ত জমিতে যে পরিমাণ খাদ্য শস্য উৎপন্ন হতো দেশ তা থেকে বঞ্চিত
হয়েছে । আমাদের গ্রামাঞ্চলে একটি প্রবাদ আছে আর তা হলো, জমির দ্রোনা বাড়ির
কোনা । এ প্রবাদের উদ্দেশ্য হলো নদীমাতৃক বাংলাদেশের জমি মানেই বর্ষায় ডুবে
যায় । কোন কোন অঞ্চলে জমি প্রায় ছয় মাস পানির নিচে থাকে । ফলে সেখানে কেবল
বোরো ধানের চাষ হয়ে থাক... | |
করা যেতে পারে । শুধুমাত্র প্রতি বছর ফল থেকেই অন্তত প্রতিটনে ৪০,০০০/- টাকা
করে হলে ৫,০০,০০০×৪০,০০০ = ২০০,০০,০০০,০০০/- টাকা আয় করা সম্ভব।
যেখানে সরকার দুই হাজার কোটি টাকার আয় করতে পারেন সেখানে প্রতি বছর
পাঁচশত কোটি টাকা খরচ করতে কেন আগ্রহী হবেন না। যারা বিদেশে যেয়ে মারা
যান, কষ্ট করেন, অনাহারে থাকতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না... | |
(৪) ল্যান্ড ইরোশন কমবে ।
(৫) সমাজে বখাটেদের উৎপাত ধীরে ধীরে কমে আসবে ।
(৬) গ্যাস ও বিদ্যুতের উপর চাপ কমবে ।
(৭) সর্বদা রাস্তায় একটা প্রশিক্ষিত জনবল থাকার কারণে দুর্ঘটনার মাত্রা কমবে ৷
(৮) ধান-গম ও ভুট্টার উপর যে চাপ তা কমবে ।
(৯) এই বিরাট ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্যও পরিবহনের প্রয়োজনে বেশ কিছু
বেহিক্যাল দরকার পড়বে যা এ... | |
নারী নির্যাতন
সুদীর্ঘকাল থেকেই নারীর উপর নির্যাতন হচ্ছে এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য।
ক্রীতদাস প্রথায় নারী ও পুরুষ উভয়েই পণ্য । তবে নারীর ব্যাপারটা আলাদা । কারণ,
পুরুষকে নিম্নলিখিত কায়িক পরিশ্রম করতে হয় যথাঃ
(১) কৃষি কাজ ।
(২) পাহাড়-পর্বত ধ্বসিয়ে কৃষি কাজের জমি তৈরী করা ।
(৩) যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিক হিসাবে যুদ্ধ করা ।
(৪) প... |
End of preview. Expand in Data Studio
README.md exists but content is empty.
- Downloads last month
- 15