label stringclasses 16
values | text stringlengths 3.73k 6k | is_valid bool 1
class |
|---|---|---|
shomresh | যেন। থানার সামনে যে এসটিডি বুথ রয়েছে সেখান থেকে মাকে ফোন করল অর্জুন। থানা থেকেই করতে পারত, তখন মনে ছিল না। মা জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার রে? আমার ফিরতে একটু রাত হবে। তুমি শুয়ে পড়ে। তুই কোত্থেকে বলছিস? থানার সামনে থেকে। এক্ষুনি বাড়ি চলে আয়। কেন? ওঁরা এসেছেন। মা গলা নামালেন। কারা? ওই যে, আমেরিকা থেকে যাঁরা এসেছেন। দুটো ট... | false |
nihar_ronjon_gupta | কী এখন সে করবে? কোন পথে কাজ শুরু করবে? ধাংলোয় ফিরে খনির কর্তা সুধাময় চৌধুরীর কাছে একটা জরুরী তার করে দিল। পুঁটলি রহস্য সুব্রত এসে বাংলোয় নিজের ঘরে ঢুকল। নানা এলোমেলো চিন্তায় সেও যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ব্যাপারটা নিছক একটা অ্যাকসিডেণ্ট না অন্য কিছু। কিন্তু সবচাইতে আশ্চর্য, লোক গেল কি করে খাদের মধ্যে। নাঃ ব্যাপারটাকে যতট... | false |
shorotchandra | সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইয়া ছিলেন। তাঁহার মাথার উপর আঁচল ছিল কিন্তু মুখখানি অনাবৃত। রমেশ দেখিল, জ্যাঠাইমা আপনিই কখন আসিয়াছেন—তাহাকে ত্যাগ করেন নাই। বাহিরের লোক দেখিল ইনিই বিশ্বেশ্বরী, ইনিই ঘোষাল-বাড়ির গিন্নীমা। পল্লীগ্রামে শহরের কড়া পর্দা নাই। তত্রাচ বিশ্বেশ্বরী বড়বাড়ির বধূ বলিয়াই হোক কিংবা অন্য যে-কোন কারণেই হোক, যথেষ্ট ... | false |
shomresh | কারো সঙ্গে যাওয়া ঢের ভাল। না। উনি আলাদা কম্পার্টমেন্টে যাচ্ছেন। এখানে তো ইচ্ছে করলেই সিট বদলানো যায় না। ঠিক আছে, আমি এবার উঠি। দীপাবলী জানালার ধারে নিজের আসনে বসল। এর মধ্যে ভরে গিয়েছে কামরা। সে স্বস্তির সঙ্গে দেখল তার আশপাশে সবাই অবাঙালি। কিছুটা নিশ্চিন্তে যাওয়া যাবে। বাঙালির কৌতূহলের সামনে তাকে এ যাত্রায় পড়তে হচ্ছে না... | false |
shunil_gongopaddhay | খবর দেননি, তা আমরা জানি। কিন্তু ওই খোঁড়া লোকটা, রাজা রায়চৌধুরী, তাকে খবর দেননি তো? অমিতাভ বললেন, না, তিনি কিছুই জানেন না। লোকটি বলল, গুড! ও লোকটার সব কিছুতে মাথা গলানো অভ্যেস। এবার মাথা গলাতে এলে ওর মাথাটাও কেটে ফেলব আর আপনার ছেলেরও! ঠিক আছে, পরশুদিন আবার কথা হবে! ফোনটা রেখে দিয়ে অমিতাভ অন্যদের দিকে তাকিয়ে বললেন, আর মো... | false |
shunil_gongopaddhay | ইউসুফ বললেন, ঘর তো খালি নেই। আজই একটি পার্টি এসেছে। অন্য লোকটি বলল, ঘর খালি নেই? ঠিক আছে, আমরা বারান্দায় বসছি, আমাদের চা করে দাও। আর চটপট রুটি-মাংস বানিয়ে দাও, আমরা নিয়ে যাব। ইউসুফ বললেন, মাফ করবেন সার। এখানে বাইরের লোকদের খাবার দেওয়ার নিয়ম নেই। লোকটি দুখানা একশো টাকার নোট বার করে দিয়ে বলল, বেশি কথা বোলো না, এই নাও, যা... | false |
nihar_ronjon_gupta | গলদঘর্ম হয়ে ওঠে। এ কি ফ্যাসাদেই পড়ল সে! এ কি গোলকধাঁধা? কোথায় নির্গমনের পথ? মাথা তুলে চারিদিকে তাকিয়ে রত্নমঞ্জিলেরও হদিস পায় না। ঘন আগাছা ও বুনো গাছপালায় দৃষ্টি ব্যাহত হয়। হঠাৎ একটা সুমিষ্ট মেয়েলী হাসির খিলখিল শব্দে চমকে ওঠে। হাসির রেশটা অন্ধকারের বুকে একটা শব্দতরঙ্গ তুলে গেল যেন। বিস্মিত হতচকিত বিনয় এদিক-ওদিক তাকায় অন... | false |
humayun_ahmed | চাইর-পাঁচ দিন থাকে, আবার চইল্যা যায়। সংসার চলে কীভাবে? চলে না। মা চিড়া কুটে, মুড়ি ভাজে, মুড়ি-লাডভু বানায়। আমি লুচি-লাডভু বানাইতে পারি। আমাকে ভেলিগুড় আইন্যা দিয়েন। ভেলিগুড়টা কী? ভেলিগুড় চিনেন না? না। কুষার থাইক্যা হয়। কুষার চিনেন? না। ইক্ষু চিনেন? হুঁ। এখন বুঝেছি। আখের গুড়। আমরা চাইর ভাইনের মধ্যে সবচাইতে সুন্দর যে জন তা... | false |
tarashonkor | অর্থহীন হইয়া উঠিতেছিল, কল্পনার মধ্যে তাহার গ্রাম মুছিয়া গিয়াছে, মা নাই, পিসিমা নাই, কেহ নাই, সব যেন বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। সুশীল বলিল, নাইন্টিন ফোরটিনগ্রেটেস্ট ইয়ার অব অল। উঃ, এতক্ষণে বোধহয় ওয়ার ডিক্লেয়ার হয়ে গেছে। অস্ট্রিয়ান আর্মি মার্চ করে চলেছে। দুই-এক জন করিয়া এতক্ষণে বিছানা ছাড়িয়া বাহিরে আসিতেছিল। নিচে রাজপথে ভিড় জম... | false |
shunil_gongopaddhay | তার ঠিক মাঝখানে সেই আলোটা জ্বলছে। যন্ত্রটা দেখলেই কেমন যেন ভয়-ভয় করে, মনে হয় যেন এক একচক্ষু দানব। কিছু প্যাকিং বাক্স ছড়ানো আছে চারদিকে, কাকাবাবু দুএকটা বাক্স খুলে দেখলেন তার মধ্যে রয়েছে নানারকম যন্ত্রপাতির অংশ। লাল চক্ষুওয়ালা যন্ত্রটার দিকে কাকাবাবু চেয়ে রইলেন একটুক্ষণ। যন্ত্রপাতি সম্পর্কে তাঁর বেশি জ্ঞান নেই, ওটা কিসে... | false |
humayun_ahmed | হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি, ব্যাঙাচির এই অবস্থা? ইউনিভার্সিটির পুরানো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে মুখ হাসি হাসি করে জিজ্ঞেস করা হয়— তারপর কি খবর ভাল আছেন? এখন কি করছেন? কলেজের পুরানো বন্ধুর সঙ্গে বলা হয়— আরো তুমি? কেমন আছ? আর স্কুল লেভেলের বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে— একজন আরেকজনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে –তাই নিয়ম। আমি ব্যাঙাচির উপর ঝাঁপ দেব ক... | false |
shomresh | পড়ে আছে। আকাশলাল সেটা তুলে নিতেই রিভারভারটাকে অনুভব করল। তা হলে হায়দারের কাছে রিভলভার ছিল। অস্ত্রটাকে পকেটে পুরে সে দরজার দিকে এগোল। এখনও রাত শেষ হয়নি। মেয়েটা কি এরই মধ্যে একা বেরিয়ে গেছে পাশের গ্রামের প্রেমিকের ঘোড়ার গাড়ির নিয়ে আসতে? এত সাহস কি ওর হবে? কিন্তু ও যখন বলেছে তখন তার যাওয়া উচিত। না হলে বেলা বাড়লে হায়দার তা... | false |
shirshendu | জানো? জানি। আপনি উকিল। বাবা আপনাকে এস্টেটের কাজ দেখার জন্য মাইনে দিয়ে রেখেছেন। সোজা কথায় আপনি আমাদের কর্মচারী। আপনার কী অধিকার বাড়ির বউ কোথায় গেছে তা আমার কাছে জানতে চাওয়ার? শচীন এটা সহ্য করতে পারল না। একদম বেহেড হয়ে গিয়ে সে বলল, সরিয়েছ! তোমরাই চপলাকে সরিয়েছ! কিন্তু পারবে বাঁচাতে? চপলা আমার। আমি যেমন করে পারি তাকে দখল ... | false |
shirshendu | তা কেন? কম খেলেই শরীর ভাল থাকে। বেশি খেলেই নানারকম ট্রাবল হয়। আর একটা কথা শোন, আমি আজকাল মাছ মাংস একদম খাই না। ওসব কোরো না বরং একটু স্যালাড কোরো। তা হলেই হবে। আচ্ছা, তাই করব। রাতে খাওয়ার সময়েই কথাটা তুলল বামাচরণ, দাদা, আমি একটা কথা ভাবছিলাম কদিন ধরে। কী কথা? আমার চাকরিটা তো কিছুই নয়। পিওনের আর কতই বা বেতন? তা ছাড়া মাঝে... | false |
humayun_ahmed | কারো হবার হয়। সেটা হবে আমার। তোমার হবে না। তোমার মধ্যে রাগ বলে কিছু নেই। থাকলে এত দিন লোকটার সঙ্গে থাকতে পারতে না। সোমা বলল, তোর কাছে আমার অনুরোধ বুঝলি বিজু, রাস্তায় যদি কোনোদিন ওর সঙ্গে দেখা হয় তা হলে হৈ চৈ করব না। বিজু চুপ করে রইল। তার খুব রাগ লাগছে। এসব আপা কী বলছে? সোমা বলল, সব তো চুকেবুকেই গেছে আর হৈ চৈ কেন? ঠিক ন... | false |
shirshendu | হয় তার ব্যাখ্যা মনীষা কখনও করতে পারবে না। সে বলল, না না। অলককে নিয়ে প্রবলেম হবে কেন? অলক প্রবলেম হলেই বা সত্যকামের কী, না হলেই বা কী? সে তরল আনন্দে ভেসে গেল। কিন্তু সেই রাতে শোয়ার সময় হঠাৎ সত্যকামের মনে পড়ল, একসময়ে সে সুছন্দার সঙ্গে অলককে ভিড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। এমনকী সুছন্দাকে পুত্রবধু করার প্রস্তাবও দিয়েছিল সে। অথচ— একা... | false |
shorotchandra | আসন্নকালেও মেয়ে লইয়া আর একবার হরিপাল যাইতে পারিতেন, কিন্তু সেখানে সেই যে পাত্র, যে নিজের পাঁচ-ছয়টি সন্তানের জননীকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় লাথি মারিয়া হত্যা করিয়াছে, তাহার কথা মনে হইলেই তাঁহার হৃৎকম্প উপস্থিত হইত। পরদিন অনাথকে নিজের শয্যাপার্শ্বে ডাকাইয়া আনিয়া দুর্গা তাহার হাতদুটি চাপিয়া ধরিয়া কাঁদিয়া কহিলেন, ঠাকুরপো, সম্... | false |
MZI | ঘামিয়ে দ্রুত সেদিকে এগিয়ে গেল—সে দুই হাত নেড়ে অদৃশ্য কিছু খুঁজতে থাকে এবং হঠাৎ করে তার হাত একজন মানুষের শরীর স্পর্শ করে। জহুর সাথে সাথে তাকে জাপটে ধরে পানির ওপর টেনে আনে। মেয়েটির শরীর নেতিয়ে আছে, জহুর তাকে তুলে ধরে তার মুখের দিকে তাকালো, চোখ দুটো বন্ধ এবং মুখে প্রাণের চিহ্ন নেই। জহুর সেটা নিয়ে মাথা ঘামালো না, মেয়েটাকে ... | false |
shomresh | সামনে দাঁড়িয়ে। মালপত্র নিয়ে কুলিরা। লাইনটা এগোচ্ছে না অনেকক্ষণ। অথচ এ নিয়ে কারো কোন চিন্তা নেই। সামনের এক ভদ্রলোক বললেন, অনেকক্ষণ গাড়ি আসছে না, বোধহয় বড়বাজারে জ্যাম হয়েছে। বড়বাজার মানে? অলোক জিজ্ঞাসা করল। বাইরে থাকেন বুঝি? গেটওয়ে অফ ক্যালকাটা। ওয়ান অফ দি মোস্ট ইনডিসিপ্লিন্ড, ঘিঞ্জি এলাকা। দেখলে মনে হবে পশ্চিম বাংলা নয়।... | false |
toslima_nasrin | আছে এই জমিদারি। মিঠেখালির জমি থেকে যা আয় হয়, তার মায়ের ভাগ সে নিয়ে যায় এখান থেকে। বহু বছর হল এভাবেই নিচ্ছে সে ভাগটি। ভাগ নিয়ে কিছু সে নিজের জন্য রেখে বাকিটা রেখে যায় বন্দরের সংসার-কাজে। কিন্তু রুদ্র এখন ভাগের ধান বিক্রিতে বিশ্বাসী নয় আর। অনেকদিন থেকে সে তার মাকে বলছে যেন মেজ মামা জমি ভাগের ব্যবস্থা করেন। তার মায়ের ভাগে... | false |
shottojit_roy | পর্যন্ত কার কার সঙ্গে আলাপ হল?’ প্রশ্নটার জন্য মোটেই তৈরি ছিলাম না, তাই প্রথমটা কী রকম হকচকিয়ে গেলাম। ঢোক গিলে বললাম, ‘একেবারে বাগডোগরা থেকে শুরু করতে হবে নাকি?’ ‘দূর গর্দভ। এখন যারা গ্যাংটকে রয়েছে, তার মধ্যে বল৷’ ‘এক—শশধরবাবু।’ ‘পদবি?’ ‘দত্ত।‘ ‘তোর মুণ্ডু।’ ‘সরি–বোস।’ ‘কেন এসেছেন। এখানে?’ ‘ওই যে বললেন কী সুগন্ধী গাছ... | false |
humayun_ahmed | ফেলল মারুফ না আসা পর্যন্ত সে কিছুই খাবে না। সে যদি আজ রাত এগারোটায় আসে তিথি রাত এগারোটা পর্যন্ত না খেয়ে অপেক্ষা করবে। মারুফের সবচে বড় সমস্যা হল সে বেশীর ভাগ সময়ই কথা দিয়ে কথা রাখে। তার জন্যে সে মন খারাপ করে না বা দুঃখিতও হয় না। যেন কথা দিয়ে কথা না রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যাপার না। স্বাভাবিক ব্যাপার। তিথি ঘড়ি দেখে ঠিক... | false |
humayun_ahmed | র্যাব। একটা পান খেতে পারলে ভালো হতো। পান আনিয়ে দিচ্ছি। জর্দা লাগবে? জি লাগবে। জর্দা ছাড়া পান। আর নিকোটিন ছাড়া সিগারেট একই জিনিস। জর্দা দেয়া পান আনিয়ে দিলাম। তিনি যেরকম তৃপ্তির সঙ্গে খাবার খেয়েছেন সেরকম তৃপ্তির সঙ্গে জর্দা দেয়া পান চিবাতে লাগলেন। আমি বললাম, সিগারেট খাবেন? ভদ্রলোক বললেন, সিগারেটের অভ্যাস নাই। তারপরেও এক... | false |
tarashonkor | তাই নয়-অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারে তিনি ক্ষমাহীন। একটি নিজস্ব তুলাদণ্ড হাতে নিয়ে তিনি ক্ষুরের ধারের উপর পদক্ষেপ করে শেষ প্রান্তে এসে তুলদণ্ডের আধারে যে আধেয়টি জমে ওঠে তাই অকম্পিত হাতে তুলে দেন, সে বিষই হোক আর অমৃতই হোক। খ. কর্মক্লান্ত জ্ঞানেন্দ্রনাথ বিশ্রাম নেবার জন্যই এই ছোট এবং শান্ত জেলাটিতে মাসকয়েক আগে এসেছেন। ইতিমধ্যে... | false |
shomresh | চেহারা বিদেশে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে। তা হলে আর-পাঁচটা পাহাড়ি গ্রামের তুলনায় আপনাদের অবস্থা বেশ ভাল। তা বলতে পারেন। আপনারা কি শুধু ইংরেজিতেই কথাবার্তা বলেন? হেসে ফেলল ডেরেক, তা কি সম্ভব? আমরা নেপালি এবং হিন্দিও বলি। না বললে কোনও কাজকর্মই করা যাবে না। বৃষ্টি একটু কমে আসতেই ডেরেক জিপ চালু করল। অর্জুন চুপচাপ ভাবছিল। এত ... | false |
toslima_nasrin | এই ফ্রিজটা কয়দিন পরেই নষ্ট হইয়া যাইব। হাসিনার এই আমার শব্দটি শুনে মনে হয় আমরা যেন এ বাড়িতে দুটো দল, এক দলে আমরা, আমি বাবা মা ইয়াসমিন, অন্য দলে দাদা আর হাসিনা। রিয়াজউদ্দিনের ছেলে জয়নাল টিনের ঘরে থাকে, ইশকুলে পড়ছে শহরে। জয়নালকে দেখলে হাসিনা বলে, এই ছেড়া এক গ্লাস পানি দে তো অথবা এই ছেড়া দৌড়াইয়া একটা রিক্সা লইয়া আয়, যা। জয়... | false |
MZI | মার্ডার করবে। এর চেহারাটা একবার দেখেন। এর কতো বড় সাহস, ক্লাসে আমাকে থ্রেট করে। প্রিন্সিপাল ম্যাডাম আমার দিকে ভাল করে তাকালেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন, সত্যি? আমি এবারেও কিছু না বলে দাড়িয়ে রইলাম। কথা না বলতে বলতে আমি ঠিক করে কথা বলতেই ভুলে গেছি। মুখ খুলে কিছু একটা বলতে গেলেই উল্টাপাল্টা কিছু একটা বলে ফেলব তখন আরো বড় ঝামেলা ... | false |
humayun_ahmed | একজন কথা বলছে, অন্যজন একটু পর পর গলা খাকারি দিয়ে থুথু ফেলছে। প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছি, জবাব দেন না। কী জন্যে? আপনের নাম শুভ্ৰ? শুভ্ৰ বলল, হ্যাঁ। ভালো আছেন? হ্যাঁ, ভালো আছি। পক্ষী দেখেন? হ্যাঁ। আমাদের সঙ্গে একটু আসতে হবে। কেন? কাজ আছে। কী কাজ? সেটা যথাসময়ে জানবেন। আপনাদের সঙ্গে কোথায় যাব? লাঞ্চে। একটা লঞ্চ পাড়ে ভিড়ছে, দেখেন... | false |
shirshendu | চেয়ে দেখে নিল একবার। দীপনাথ নিজের উপস্থিতি জানান দিতে উঠে দাঁড়িয়েছিল। বোস সাহেব একবার তাকালও তার দিকে, কিন্তু কোনও ইশারা করল না। দীপনাথ আবার বসে পড়ল। এই দাঁড়ানোর অবস্থায় তাকে দেখলে মণিদীপা অবশ্যই চাপা হিংস্র গলায় বলত, স্লেভ! স্লেভ! বন্ডেড লেবারার। ওরা বেরিয়ে যেতেই অফিসে একটা চাপা গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল, নানা রকম অনুমান, আ... | false |
shorotchandra | করিলাম, এত অন্ধকারে ডিঙিতে চড়বে? সে আবার হাসিল। কহিল, ভয় কি রে! সেই ত মজা। তা ছাড়া অন্ধকার না হ’লে কি মাছ পাওয়া যায়? সাঁতার জানিস? খুব জানি। তবে আয় ভাই! বলিয়া সে আমার একটা হাত ধরিল। কহিল, আমি একলা এত স্রোতে উজোন বাইতে পারিনে—একজন কাউকে খুঁজি, যে ভয় পায় না। আমি আর কথা কহিলাম না। তাহার হাত ধরিয়া নিঃশব্দে রাস্তার উপর আসিয়... | false |
shordindu | যাইতেছে না কিন্তু তাহার কলধ্বনি কানে আসিতেছে। সম্মুখে বিহারের উধ্বোঙ্খিত চূড়া বিপুলায়তন প্রস্তরীভূত অন্ধকারের আকার ধারণ করিতেছে; বিহারভূমি হইতে কোলাহলের শব্দ আসিতেছে…কয়েকটি মশাল জ্বলিয়া উঠিল… সেনা-মণ্ডলীর সীমান্ত পরিক্রমণ করিতে করিতে যুবরাজ বিগ্রহপাল চিন্তা করিতেছিলেন বুড়া লক্ষ্মীকর্ণ একটা গ্রন্থিচ্ছেদক…চোর…দিব্য বিহার... | false |
tarashonkor | সে কি? সে আসর থেকে বেরিয়ে এল, তুমি এলে সঙ্গে সঙ্গে। আমি বলেও দিলাম তোমাকে। তারপর আমি খোঁজও করলাম; শুনলাম, তোমার ঘরেই— নিতাই বলিল—হ্যাঁ, কজন লোক বিরক্ত করছিল ব’লে আমার ঘরেই এসেছিল। আমি এসে দেখলাম শুয়ে আছে, গায়ে অনেকটা জ্বর। কিন্তু খানিক পরেই বেরিয়ে সেই লোকের সঙ্গেই চলে গেল। প্রৌঢ়া চিন্তিত হইয়া উঠিল; রাজার কৌতুক-হাস... | false |
robindronath | ভিতরকার আসল কথাটা এই যে, পরেশকে সুচরিতা এক জায়গায় দৃঢ় করিয়া ধরিয়া বলেতেছে–“তোমাকে ছাড়িব না, আমি এখনো তোমার সমাজের, তোমার মতের, তোমার শিক্ষার বন্ধন কোনোমতেই ছিঁড়িতে দিব না।’ পরেশ কহিলেন, “বিবাহ-অনুষ্ঠানে শালগ্রামের সংস্রব বাদ দিতে বিনয় রাজি হয়েছে।” সুচরিতা চৌকির পিছন হইতে আসিয়া পরেশের সম্মুখে চৌকি লইয়া বসিল। পরেশ তাহাকে... | false |
robindronath | ওর স্নানাহারের নিয়মের এমন ব্যতিক্রম ঘটে নি। আজ বড়োই ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে বাড়িতে যেই এল, প্রথম কথাই মনে হয়, কুমু তার দাদার ওখানে চলে গেছে এবং খুশি হয়েই চলে গেছে। এতকাল মধুসূদন আপনাতে আপনি খাড়া ছিল, কখন এক সময়ে ঢিল দিয়েছে, শরীরমনের আতুরতার সময় কোনো মেয়ের ভালোবাসাকে আশ্রয় করবার সুপ্ত ইচ্ছা ওর মনে উঠেছে জেগে, সেইজন্যেই অনায়া... | false |
toslima_nasrin | না। আমরা ছিলামই ও বাড়িতে দাঁড়িয়ে। মিন্টুর বোন, মনু, পাড়া কাঁপিয়ে কাঁদছিল। মাথার ওপর ছিলই কাকের কা কা কা। পাড়ার মায়েরা মুকুলদের বারান্দা থেকে ফিরে এসে পানি ঢালছিলেন কেঁদে বেঁহুশ হয়ে পড়া মিন্টুর মা’র মাথায়। মনু থেকে থেকে মা’কে বলছিল ও ঈদুন আপা, আমার ভাইরে যারা মারছে, তাগোরে আমি খুন করুম। মনু বেরিয়ে যেতে চাচ্ছিল বাড়ির বাই... | false |
humayun_ahmed | দেব। তবে অন্য অন্য কলে আগের মতো পাঁচ টাকা। ভাই যাই? বলে আমি হন।হন করে পথে চলে এসেছি— দোকানের এক কর্মচারী এসে আমকে ধরল। শতাব্দী স্টোরের মালিক ডেকেছেন। আমাকে যেতেই হবে, না গেলে তার চাকরি থাকবে না। আমি মালিকের সঙ্গে দেখা করার জন্যে ফিরে গেলাম। নিতান্ত অল্পবয়েসি একটা ছেলে। গোলাপি রঙের হাওয়াই শার্ট পরে বসে আছে। সুন্দর চেহার... | false |
shottojit_roy | পারলাম। এখানে কর্ডোবা এসেছিল, কারণ মাটিতে পড়ে আছে একটা আধখাওয়া কালো রঙের সিগারেট, যেমন সিগারেট একমাত্র কর্ডোবাকেই খেতে দেখেছি। কিন্তু এ ছাড়া মানুষের আর কোনও চিহ্ন চোখে পড়ল না। পাথরের উপর যখন পায়ের ছাপা পড়ে না, তখন আর কী চিহ্নই বা থাকবে? সেই বিরাট হলঘরের ভিতর এসে, এবারে আর না থেমে সোজা বিপরীত দিকের সুড়ঙ্গ ধরে চলতে লাগলা... | false |
humayun_ahmed | হয়ে বসে থাক। আমি কিন্তু স্পিড আরো বাড়াচ্ছি। রেডি। গেট সেট গো। এমন স্পিড দেব যে মোটর সাইকেল নিয়ে আকাশে উড়ে যাব। স্যারের কথা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে মোটর সাইকেল সত্যি সত্যি আকাশে উঠে গেল। ওপর থেকে নিচের ঢাকা শহর দেখা যাচ্ছে। আমার সামান্য ভয় ভয় লাগছে। তবে ভয়ের চেয়ে আনন্দ হচ্ছে অনেক বেশি। ভয়ঙ্কর ভয়ের স্বপ্নে মানুষের ঘুম ভাঙে,... | false |
shunil_gongopaddhay | বলল, না স্যার, আমি কতবার দেখেছি। রাজবাড়িতে কোনও অতিথি এলে তো আমাকেই দেখাতে আনতে হয়। কাকাবাবু বললেন, তা তো ঠিকই। আচ্ছা, তুমি গুরুপদ রায়কে চেনে? গৌরাঙ্গ বলল, কোন গুরুপদ? মুখপোড়া গুরুপদ? মোটর গ্যারাজে কাজ করে? কাকাবাবু বললেন, হ্যাঁ। গাড়িও চালায়। ওর মুখোনা ওইভাবে পুড়ল কী করে? গৌরাঙ্গ বলল, তা কে জানে! ও মাঝে মাঝে কোথায় যেন ... | false |
humayun_ahmed | যাবেন? এখন যাব। আমি কি স্যার আপনার সঙ্গে আসব? তুমি আসতে চাচ্ছ কেন? আপনাকে খুব অস্থির লাগছে। সে জন্যেই আসতে চাচ্ছি। না আমি অস্থির না। আমি ঠিক আছি। আমি মারলা লির সঙ্গে দেখা করব। তার কাছ থেকে আমি আরো কিছু গ্রন্থও আনতে চাই। তুমি আমার টুপি এনে দাও। আপনি কি আপনার স্ত্রীকে কিছু বলে যাবেন না? না। ওর সামনে পড়তে কেন জানি লজ্জাও ... | false |
MZI | নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে কোথাও এক পা আগ্রসর হতাম না। ম্যাঙ্গেল ক্বাস নিয়ন্ত্রণ প্যানেলে তার দলের লোকজনের সাথে যোগাযোগ নিশ্চিত করতে করতে আমাকে বলল, তুমি স্কাউটশিপটা প্রস্তুত কর, আমরা কিছুক্ষণের মাঝেই রওনা দিতে চাই। স্কাউটশিপে যাবার আগে আমি মিত্তিকাকে ডেকে পাঠালাম, সে একধরনের ভয়ার্ত চোখে হাজির হলো, ফ্যাকাশে মুখে জিজ্ঞে... | false |
robindronath | পাপের প্রায়শ্চিত্ত এমন সর্বনেশে ঘটা করে কেন! এত লোককে নিমন্ত্রণ! আমার একলায় কুলোল না? এত মানুষকে দিয়ে তার ভার বহন করাবে! আহা, ঐ ছেলেমানুষকে কেন মারবে? তাকে ফিরে ডাকলুম, অমূল্য! আমার গলা এমন ক্ষীণ হবে বাজল সে শুনতে পেলে না। দরজার কাছে গিয়ে আবার ডাকলুম, অমূল্য! তখন সে চলে গেছে। বেহারা, বেহারা! কী রানীমা? অমূল্যবাবুকে ডেক... | false |
manik_bandhopaddhay | না কাল সে কোমরে চোট খাইয়া শয্যাগত ছিল। শশীর মনে বর্ষার মতো বিষন্নতা ঘনাইয়া আসে। কুসুম শেষে এমন দুর্বোধ্য হইয়া উঠিল! সে কত আশা করিয়াছিল কুসুম ধীর শাস্তভাবে তার সমস্ত কথা শুনিবে, সমস্ত বুঝিতে পারবে। কোথাও একটুকু না-বোঝার কিছু না-থাকায় তাদের দুজনের করো মনে দুঃখ থাকিবে না, অভিমান থাকিবে না, লজ্জাও থাকিবে না। বোঝাপড়া শেষ হই... | false |
shordindu | তারপর ধীরে ধীরে তাহার চোখে শঙ্কা ও সতর্কতা ফুটিয়া উঠিল। সে সোজা হইয়া বসিয়া একটু বিহুলভাবে বলিল, ‘কী—কী—?’ ব্যোমকেশ প্রফুল্ল স্বরে বলিল, ‘আপনার শোবার ঘরে একটা ছোট লোহার সিন্দুক রয়েছে দেখলাম। ওতে কী আছে?’ শাস্তা বলিল, ‘দারোগাবাবুকে তো বলেছি, কি আছে আমি জানি না। আমার স্বামী সিন্দুকের চাবি নিজের কাছে রাখতেন।’ বিজয়বাবু ব... | false |
shomresh | ছেলেদের সঙ্গে সাদামাটা কথা বলার দায়ে তাকে অনেক অভিযোগের সামনে দাঁড়াতে হয়েছে। এখন কলেজে কোন ছেলের দৃষ্টি দেখলেই অস্বস্তি হয়। ছেলেরা এই বয়সে সহজ চোখে তাকাতে পারে না। অথচ দুজন একই রকম বয়ে গেছে। ওরা মিলিটারিতে চলে গেলে সে দুজন ভাল বন্ধুকে হারাবে। অথচ এতদিন সে এদের কোন খোঁজ খবর করেনি। চিঠি দেওয়ার কথা মনে আসেনি। অথচ চলে যাওয়... | false |
tarashonkor | পায়। সে বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইল। কেমন করিয়া বসন্তকে এড়াইয়া চলিয়া যাইবে সে তা-ই ভাবিতে আরম্ভ করিল। ওদিকে নির্মলা, ললিতা তাহাদের প্রিয়জন বেহালাদার ও প্রধান দোহারকে লইয়া তখন মদের আসর পাতিয়া বসিয়া গিয়াছে। মহিষের মত বিরাটকায় লোকটা–প্রৌঢ়া দলনেত্রীর মনের মানুষ। লোকটা অদ্ভুত। ঠিক সেই একভাবেই বসিয়া আছে, অনাদি অনন্তর... | false |
nihar_ronjon_gupta | টাকা মইনা পাই। বিয়ে-থা করিনি। একা মানুষ, মোটামুটি সচ্ছলতার মধ্যেই দিন কাটছে। কিন্তু যাক যা বলছিলাম-জিতেন্দ্ৰ চৌধুরীর মেজ ভাই হীরেন্দ্ৰ, চৌধুরী ওকালতি করে তেমন একটা কিছু উপার্জন করতে কোন দিনই পারেননি। তাঁরই পাঁচটি ছেলেমেয়ে—জগদীন্দ্র, মণীন্দ্ৰ, ফণীন্দ্র ও শচীন্দ্ৰ—চার ছেলে এবং একটিমাত্র মেয়ে স্বাতী। তাঁরও অকালেই মানে নীর... | false |
shunil_gongopaddhay | কাছে। দ্বারকানাথ নিজে সংস্কৃত অবশ্য ভালো জানেন না, কিন্তু অধ্যাপক বুর্ণফ এবং ম্যাক্সমুলার সংস্কৃত শিক্ষার সূত্রে ভারতবর্ষ সম্পর্কে এমন সব কথা বলেন, যার সঙ্গে প্রকৃত ভারতবর্ষের সাদৃশ্য খুব কম—এ সব শুনে দ্বারকানাথ কৌতুক বোধ করেন। ম্যাক্সমুলার নামের যুবকটির কৌতূহলের আতিশয্য দেখে দ্বারকানাথ তাকে বললেন, যেদিন খুশী সকালবেলা ... | false |
humayun_ahmed | এখন দয়া করে ডাউনসেট হও। ডাউনসেটটা কী? ডাউনসেট হলো আপসেটের উল্টোটা। বারান্দায় বসে না থেকে চোখে মুখে পানি দিয়ে শুয়ে পড়। আমি বাবার ডান হাতটা ধরে নিজের কোলে রাখলাম। তিনি মনে হলে একটু লজ্জা পেয়ে গেলেন। আমার কাছ থেকে এ ধরনের ব্যবহার পেয়ে তিনি অভ্যস্ত না। আমি আবারো বললাম, বাবা যাও ঘুমুতে যাও। বাবা ক্লান্ত গলায় বললেন, বসি আরো ... | false |
MZI | ছিল, আর সে একেবারে শিশু বয়স থেকে শুধু বই পড়ে আসছে। আমার মনে হয় সে জন্যে সে এত সুন্দর লিখতে পারত। বই পড়ে সবাই যে সফল লেখক হয়ে যাবে তা নয় কিন্তু বই পড়লে নিশ্চিতভাবে নিজের ভেতরে একটা পরিবর্তন হয়। সেই কবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মারা গেছেন, জীবনানন্দ দাস ট্রামের তলায় চাপা পড়েছেন। মজার ব্যাপার হল, তাদের লেখাগুলো এখনও পুরোপুরি জীব... | false |
nihar_ronjon_gupta | ছিল কি? হ্যাঁ, ওকে আমি চার বছর ধরে জানি— তার মানে আপনারা পরস্পর পরস্পরকে চার বছর ধরে জানেন? হ্যাঁ। খুব ঘনিষ্ঠতা ছিল আপনাদের মধ্যে, তাই না? তা ছিল বৈকি— একটা অত্যন্ত ডেলিকেট প্রশ্ন করব— বেশ তো করুন। বিয়ের আগে আপনাদের পরস্পরের মধ্যে মানে বুঝতেই পারছেন কি আমি জানতে চাই– বুঝেছি–হ্যাঁ, আমরা তো জানতামই পরস্পর পরস্পরকে বিবাহ ... | false |
shirshendu | যাবে না তো! দেখি শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তোর পইতের দিন কবে ঠিক হল আগে জেনে নিই। ছোড়দি কেমন আছে গো, বউদি? ভালই তো! না। ছোড়দিটা বড় কান্নাকাটি করত। ওর জন্যই আরও আমি পালিয়ে চলে এসেছি। ভাবিস না। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। মেয়েরা কথায় কথায় কাঁদে।–বলতে বলতে আনমনে দরজার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে বলে, যোগীবর, তোমার ভয় নেই। আমি ... | false |
humayun_ahmed | যেতে রাজি নয়। আমি একাই গেলাম। বিরাট একটা দরখাস্তও লেখা হলো। ক্লাস টেনের বগা ভাই (আসল নাম বদরুল ইসলাম। খুব লম্বা বলে আমরা তাকে ডাকি বগা ভাই) হেড স্যারের হাতে দরখাস্ত তুলে দিল। হেড স্যার বললেন, ব্যাপার কী? বগা ভাই তোতলাতে তোতলাতে বলল, দরখাস্তে সব লে-লে-লে-লেখা আছে স্যার। বগা ভাইয়ের এই একটা অসুবিধা, ভয় পেলে তোতলাতে শুরু ক... | false |
shirshendu | কারও সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক রচিত হয় না বটে। কিন্তু এই অদ্ভুত প্রাণময় গ্রহটির প্রতি হয়। দোলন তার সরু গলায় খুব সাবধানে ডাকল, বাবা। উঁ! গভীর আনমনা কৃষ্ণজীবন জবাব দিল। কী ভাবছো বাবা? কৃষ্ণজীবন মাথাটা সামান্য নত করে বলে, আমরা যখন ছোটো ছিলাম তখন আমাদের গায়ে অনেক গাছপালা ছিল। তুমি কেন শুধু গাছপালার কথা ভাবছো বাবা? কেন ভাবছি! ... | false |
robindronath | করিয়া দিল। সে বলিয়াছিল, সে বিনোদিনীকে ভালোবাসে না; কিন্তু যাহা শুনিল, যাহা দেখিল, তাহা তাহাকে সুস্থির হইতে দিল না, তাহাকে চারি দিক হইতে বিচিত্র আকারে পীড়ন করিতে লাগিল। আর কেবলই নিষ্ফল পরিতাপের সহিত মনে হইতে লাগিল, “বিনোদিনী শুনিয়াছে–আমি বলিয়াছি “আমি তাহাকে ভালোবাসি না” ২৪ মহেন্দ্র ভাবিতে লাগিল, “আমি বলিয়াছি মিথ্যা কথা,... | false |
humayun_ahmed | কিছুক্ষণ খোল করতাল বাজানো হলো। শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে সে উড়ে গেল ঠিকই, আবার এসে বসল। এই দফায় দেখা গেল তার ঠোঁটে মাংস। কিসের মাংস কে জানে! মরা গরুর মাংস হলে সর্বনাশ। মন্দির অশুদ্ধ হয়ে যাবে। মন্দির শুদ্ধি বিরাট আয়োজনের ব্যাপার। এককড়ির উপদেশে বাঁশের আগায় খড় বেঁধে সেই খড়ে আগুন লাগিয়ে চেষ্টা শুরু হয়েছে। পশুপাখি আগুন ভয় পায়। এই শক... | false |
shordindu | দুই হাতে দু-পেয়ালা চা। আমরা উঠিয়া দাঁড়াইলাম, তিনি আমাদের হাতে চায়ের পেয়ালা দিয়া স্বামীর প্রতি ব্যগ্র উৎকণ্ঠার দৃষ্টি হানিয়া প্রস্থান করিলেন। নীরব প্রকৃতির মহিলা, কথাবার্তা বলেন না। আমরা আবার বসিলাম। দেখিলাম বিশু পাল সপ্রশ্ন নেত্ৰে বোমকেশের মুখের পানে চাহিয়া আছেন। ব্যোমকেশ চায়ের পেয়ালায় ক্ষুদ্র একটি চুমুক দিয়া বলিল... | false |
humayun_ahmed | তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। কী কারণে মেয়ে চড় খেয়েছে এটা না জেনে তিনি নড়বেন না। প্রয়োজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকবেন। খালা আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেন, মেয়েটা চলে গেছে না কি? আমি বললাম, না। লুকিয়ে আছে। বাবার বাজনা না শুনে সে নড়বে না। এত লোকের সামনে এত বড় অপমান। তারপরও মেয়ে বসে আছে। তার কি আত্মসম্মান নেই? আত্মসম্মানের চেয়ে ... | false |
MZI | রাখা যায় নি। সেটা নিয়ে আমি অবশ্যি খুব বেশি ভাবছি না। আমার আম্মু যে আমাকে এভাবে মারেন সেটা কেউ জানে না। সবাই ধরে নেয় আমি পথেঘাটে মারামারি করে নিজের এ অবস্থা করি। স্কুলে আমাকে দেখে সবাই সরে গিয়ে জায়গা করে দিলো। আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলো না, শুধু প্রিয়াংকা চোখ কপালে তুলে বললো, সে কী, তোর গালে কী হয়েছে? আমি বললাম, কিছু ন... | false |
shordindu | দরজা একটু ফাঁক করে দেখলুম—দাদা নিঃশব্দে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। চাঁদের আলো বারান্দায় পড়েছিল, দাদাকে স্পষ্ট দেখতে পেলুম।’ ব্যোমকেশ বলিল, ‘একটা কথা; আপনার দাদার পায়ে জুতা ছিল?’ ‘হ্যাঁ।’ ‘তাঁর হাতে কিছু ছিল?’ ‘না।’ ‘কিছু না? একটা কাগজ কিম্বা শিশি?’ ‘কিছু না।’ ‘তখন ক’টা বেজেছিল; দেখেছিলেন কি?’ সত্যবতী বলিল, ‘দে... | false |
manik_bandhopaddhay | চালায়, বড়লোক, মাঝারি লোক সবাইকে খুশি রাখে এবং যার কাছে যত বেশি সম্ভব খসিয়ে নেয়। হিসাব রাখে, অন্য চাকরদের হুকুম দেয়, সম্ভ্ৰান্ত ঘরের যে মেয়েরা শিকার খুঁজতে আসে, তাদের প্রয়োজন মতো সবিনয়ে ও সসম্মানে অলঙনীয় নির্দেশ দেয়, আবার দরকার হলে প্যাট্রনের সোডার বোতল নিজ হাতে খুলে দেওয়া থেকে পা-ও চাটে। দাশগুপ্ত কিছু বলার আগেই সে শুরু... | false |
MZI | মাঝে একটা গাম্ভীর্য ধরে রেখে সে দরজার বেলে চাপ দিল। যে মানুষটি দরজা খুলে দিল। ছোটাচ্চু অনুমান করল সে নিশ্চয়ই আকবর হোসেন। চল্লিশ পয়তাল্লিশ বছর বয়স চেহারার মাঝে একটা সরকারি অফিসারের মতো ভাব। মানুষটা জিজ্ঞেস করল, শাহরিয়ার সাহেব? ছোটাচ্চু তার চশমাটা ঠিক করে বলল, জি। আলটিমেট ডিটেকটিভ এজেন্সি থেকে এসেছি। আমাকে একটা এসাইনমেন্... | false |
robindronath | কাটিয়া যাইবে তাহা কিছুই বলা যায় না। গোরা তো উঠিতে চায় না, ও দিকে রমাপতির প্রাণ বাহির হইতেছে। সে নাপিতের মুখের ইতিবৃত্ত শেষ না হইতেই জিজ্ঞাসা করিল, “হিন্দুর পাড়া কত দূরে আছে?” নাপিত কহিল, “ক্রোশ দেড়েক দূরে যে নীলকুঠির কাছারি, তার তহসিলদার ব্রাহ্মণ, নাম মাধব চাটুজ্জে।” গোরা জিজ্ঞাসা করিল, “স্বভাবটা?” নাপিত কহিল, “যমদূত ব... | false |
robindronath | পরখ করিয়া দেখার কথাও ভূপতির মনে স্থান পায় নাই। ভূপতি সন্ধ্যার সময় বর্ধমান হইতে বাড়ি ফিরিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি মুখহাত ধুইয়া সকাল সকাল খাইল। অমলের বিবাহ ও বিলাতযাত্রার আদ্যোপান্ত বিবরণ শুনিবার জন্য স্বভাবতই চারু একান্ত উৎসুক হইয়া আছে স্থির করিয়া ভূপতি আজ কিছুমাত্র বিলম্ব করিল না। ভূপতি শোবার ঘরে বিছানায় গিয়া শুইয়া গুড়গুড়ির স... | false |
humayun_ahmed | সব বন্ধ। প্রতিটি বন্ধ জানালায় ভারী পর্দা ঝুলছে। দিনের আলোতেও ঘর অন্ধকার। সামান্য যে আলো আসছে সে আলোও আলাউদ্দিন সহ্য করতে পারছেন না। আলো পড়লেই চোখ জ্বলে যাচ্ছে এ রকম হয়। একটা ভেজা তোয়ালে সারাক্ষণ তাকে চোখের উপর দিয়ে রাখতে হয়। বাথটাব ভর্তি পানির ভেতর সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে আলাউদ্দিন শুয়ে আছেন। অনেকদিন ধরেই এই অবস্থায় আছেন। তা... | false |
bongkim | চলিল। চিকিৎসক বলিলেন, “তুমি ইহাকে লইয়া গিয়া, রক্তসকল ধুইয়া দাও। আমি ঔষধ লইয়া যাইতেছি |” শান্তি জীবানন্দকে পুষ্করিণীতীরে লইয়া গিয়া রক্ত ধৌত করিল। তখনই চিকিৎসক বন্য লতা – পাতার প্রলেপ লইয়া আসিয়া সকল ক্ষতমুখে দিলেন, তার পর, বারংবার জীবানন্দের সর্বাঙ্গে হাত বুলাইলেন। তখন জীবানন্দ এক দীর্ঘনি:শ্বাস ছাড়িয়া উঠিয়া বসিল। শান্তির... | false |
shunil_gongopaddhay | জোজো বলল, তা হতে পারে। কিন্তু ও লোকটা কাকাবাবুর কাছে ক্ষমা চায়নি। ইন্দ্রজিৎ অবাক হয়ে বললেন, তার মানে? ক্ষমা চাইবার মতো কী কাজ করেছে সেলিম? কাকাবাবু বললেন, সে কিছু না। অতি সামান্য ব্যাপার। জোজো, আমরা বলেছি না, ওটা আমরা ভুলে যাব? ইন্দ্রজিৎ বললেন, ও কাকাবাবু, আপনি তো এখানে এসেই একটা দারুণ কাজ করে ফেলেছেন। এবার কাকাবাবুর অ... | false |
shorotchandra | অপূর্ব উঠিয়া বসিল। চোখ রগড়াইয়া হাই তুলিয়া কহিল, উঃ—এই রাত্রে আবার ফিরে আসতে হলো! ভারতী টানাটানি করিয়া একটা জানালা রুদ্ধ করিতেছিল, বলিল, যাবার সময় এ কথা বলে গেলেন না কেন? সরকার-মশায়কে দিয়ে আপনার খাবারটা একেবারে আনিয়ে রেখে দিতাম! কথা শুনিয়া অপূর্বর ঘুম-ভাঙ্গা গলার শব্দ একেবারে তীক্ষ্ণ হইয়া উঠিল, কহিল, তার মানে? ফিরে আসবা... | false |
MZI | পেছন ফিরে গলা উঁচিয়ে স্লোগান ধরছে, অন্যেরা তার উত্তর দিচ্ছে। দূর থেকে সব স্লোগান শোনা যাচ্ছে না, অ্যাকশান অ্যাকশান, ডাইরেক্ট অ্যাকশান এবং প্রশাসনের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে এই দুটি স্লোগান সে বুঝতে পারল। মিছিলটা খুব বড় নয়। মুক্তিযুদ্ধ চত্বরের আশপাশে ঘুরপাক খেতে থাকে, কখনোই সাদা পাজেরো থেকে বেশি দূরে সরে যাচ্ছে না। রাফ... | false |
shomresh | হয়ে যেতে বাধ্য। মায়া আর করুণা কি এক? সুদীপ জানে না। কিন্তু মায়ের জন্যে তার কষ্ট হত। অবনী তালুকদারের বিশাল ব্যক্তিত্বের কাছে মা কেন এমন কুঁকড়ে থাকবেন? কিন্তু এ তো গেল ভেতরের ব্যাপার। মায়ের শরীর নিয়ে প্রাথমিক দুশ্চিন্তা এবং কষ্টের সময়টুকু পার হয়ে গেলে সে যখন জেনেছিল আর কখনও সুস্থ হবার সম্ভাবনা নেই তখন থেকেই নিজের অজান্তে... | false |
humayun_ahmed | কালাপাহাড়! হ্যাঁ। আমি যেখানে যাই সে আমার পেছনে পেছনে যায়। কী আশ্চর্য! শফিক বলল, আশ্চর্য কেন? অবন্তি বলল, এ রকম একটা ভয়ংকর কুকুর আপনার সঙ্গী, এইজন্যেই বললাম, কী আশ্চর্য। অবন্তি অনেক রানাবানা করেছিল। সে তার দাদাজানের জন্যে সত্যি সত্যি হোটেল থেকেও খাবার আনিয়েছিল—ডাল গোশত। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তার পার্টিতে কেউ এল না। খালে... | false |
bongkim | চাহিয়া রহিলেন–মুখে মনুষ্যের সাধ্যাতীত রোগের ছায়া। মাধবীনাথ তাঁহার সঙ্গে কথা কহিলেন না–মাধবীনাথ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলেন যে, ইহজন্মে আর গোবিন্দলালের সঙ্গে কথা কহিবেন না। বিনাবাক্যে মাধবীনাথ চলিয়া গেলেন। গোবিন্দলাল গৃহ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া ভ্রমরের শয্যাগৃহতলস্থ সেই পুষ্পোদ্যানে গেলেন। যামিনী যথার্থই বলিয়াছেন, সেখানে... | false |
shomresh | দিদিমণি। দারোয়ান বলল, কৌনসা দিদিমণি? নাম ক্যা? অনি বলল, তপুদিদিমণি! স্বৰ্গছেঁড়া থেকে এসেছে। কা বোলতা? পুরা নাম কহ। দারোয়ান খিঁচিয়ে উঠল। পুরো নাম জানি না। অনি বলল। তব ভাগো। দো মিনিট নেহি থা আর ফটসে ঘুস গিয়া। যা ভাগ। লিডিস স্কুলমে ঘুঁসনেমে বহুত মজা-হাঁ? লোকটা অনির হাত ধরে টানতে টানতে গেটের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। অনি বলল, আ... | false |
shirshendu | ফেললাম আমরা! মিস্টার বোস ভাবছেন। একটু ভাবুক না! রোজ তো ভাবে না, আজ ভাবুক। আপনার যা মানায়, আমাকে তো তা মানায় না। দোষটা বোধহয় আমার ঘাড়ে এসে পড়বে। কেন? আপনার দোষ কিসের? আমিই তো আসতে চেয়েছিলাম। দীপনাথ একটু শ্বাস ফেলল। সব কথা মণিদীপা বুঝবে না। বোঝানো যাবেও না। মণিদীপা আবার তার স্বভাবসিদ্ধ শ্লেষের হাসি হেসে বলে, ইউ আর এ স্লে... | false |
bongkim | থাকে, এজন্য দুইটা সর্পের দ্বারা হন্য ব্যক্তিকে দংশন করান রীতি ছিল। মবারক তাহা জানিতেন। তিনি দ্বিতীয় পিঞ্জরের উপর পা রাখিলেন, দ্বিতীয় মহাসর্পও তাঁহাকে দংশন করিয়া তীক্ষ্ণ বিষ ঢালিয়া দিল। মবারক তখন বিষের জ্বালায় জর্জ্জরীভূত ও নীলকান্তি হইয়া, ভূমে জানু পাতিয়া বসিয়া যুক্তকরে ডাকিতে লাগিল, “আল্লা আকবর! যদি কখনও তোমার দয়া প... | false |
MZI | হ্যাঁ। ঈশ্বরের কসম খেয়ে বলছি– বেশ। রিদি অস্ত্রটা তার গলায় স্পর্শ করে বলল, এই মুহূর্তে আমাদের হওনকে এখান থেকে বের হয়ে একটা বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে নিয়ে যাও। নিয়ে যাব। অবশ্যই নিয়ে যাব। একশবার নিয়ে যাব। কোথায় নিয়ে যাবে? ক্রিভন ভাঙ্গা গলায় বলল, তোমরা যেখানে বলবে। তোমরা যেখানে যেতে চাও– যাবার কোনো জায়গা আছে নাকি আবার। পুরো দু... | false |
humayun_ahmed | বলল, তাহলে সন্ধ্যার পরই গায়ে-হলুদ হবে। সন্ধ্যার পর করলে কেউ কিছু দেখবেও না। ভাইয়াকে বাদ দিয়ে কি আর গায়েহলুদ হবে? মা সঙ্গে সঙ্গে বললেন, আচ্ছা আচ্ছা। কেন জানি মা ইরাকে খুব ভয় পান। গোসল করে আপা হলুদ শাড়ি পরবে না? শাড়ি তো নেই। তুমি টাকা দাও, আমি হলুদ শাড়ি কিনে আনিব। তুই কিনে আনবি, কেউ যদি কিছু জিজ্ঞেস করে? জিজ্ঞেস করলে বলব... | false |
MZI | সদস্য ছিল। মনে আছে, একজন দাবি করেছিল সে নাকি যীশুখ্রিস্ট। হাঃ হাঃ হাঃ। রিকি লোকটার কথা বুঝতে পারে না, কিন্তু ভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে তাকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করছে। রিকি বুঝতে পারে, প্রচণ্ড ক্রোধের সাথে সাথে আরো একটা অনুভূতি তার ভিতরে ছড়িয়ে পড়ছে, যেটার সাথে তার ভালো পরিচয় নেই–অনুভূতিটি ভয়ের। দ্বিতীয় লোকটি তার পকেট থেকে চৌকো... | false |
shordindu | সীমন্তিনীকে ফেরত দিলেন এবং রাজপুরী তল্লাস করিয়া রাজকন্যাকে ধরিয়া লইয়া গেলেন। রাজকন্যার নাম ছিল শিলাবতী। অতঃপর যবন সৈন্য বিশ্রাম শেষ করিয়া দক্ষিণ দিকে চলিয়া গেল। শিলাবতীকে আলাউদ্দিন সঙ্গে লইয়া গেলেন। তিনি আর এ পথে আসেন নাই, অন্য পথে প্রত্যাবর্তন করিয়াছিলেন; পিতৃব্যকে হত্যা করিয়া সুলতান হইয়াছিলেন। শিলাবতীর কি হইল কেহ জান... | false |
shunil_gongopaddhay | চেয়ে বেশী কানে শুনতে পাবেন–তোমার কতগুলোন আমি বরং ওঁর কানে কানে বলে দিচ্চি! হাত ধরে ধরে সে কুসুমকুমারীকে নিয়ে এলো পালঙ্কের কাছে। নবীনকুমার ধীর স্বরে বললো, এ মেয়েটি কে, চিনতে পারলুম না তো! সরোজিনী বললো, আহা-হা, মস্করা হচ্চে, কুসোমাদিদিকে চিনতে পারচেন না? সেই যে, আপনাদের থ্যাটারের আগের দিন এয়েছেল। আপনি ওর কাচ ঠেঙে শাড়ী পর... | false |
manik_bandhopaddhay | মহেশ চৌধুরীর মনে হইতে লাগিল, অনেক দিন পরে বাড়ি ফিরিয়া সে শুধু বাপের সঙ্গে কথা কাটাকাটি এড়াইয়া চলিয়াছিল, কথাগুলি তার মাথায় ঢোকে। নাই। একবার টোক গিলিয়া মহেশ চৌধুরী এক চুমুকে জলের গ্লাসটা প্রায় অর্ধেক খালি করিয়া ফেলিল। ছেলেও যদি তার সহজ সরল কথা না বুঝিয়া থাকে– অথবা এ সব কথা বুঝিবার নয়? মানুষ যা করিতে চায় তাই করে? অল্প দূর... | false |
humayun_ahmed | সঙ্গে। এই যে ভাই সাহেব, আমার এই মেয়েটা… শুনেছি, বাবাকে বলছিলেন। আমি বারান্দায় ছিলাম। খুব ভালো খবর! নীলু, কদমবুসি কর, টগর সাহেবকে। আমি আঁৎকে উঠলাম, আরে না-না। না-না কি? মুরুব্বির দোয়া ছাড়া কিছু হয় নাকি? এ্যাঁ? রামিজ সাহেব ঘর কাঁপিয়ে হাসতে লাগলেন। আজ আর তিনি দীন ভাড়াটে নন। আজ এক জন অহংকারী বাবা। আমি বললাম, তোমার নাম কী? ... | false |
nazrul | মাতা বলিলেন, ‘তুই এখন শো দেখি। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে সব কথা বলি। জাহাঙ্গীর হাসিয়া বলিল, ‘আর সব কথা বলতে হবে না তোমার। আমি সব জানি। এরই মধ্যে হাজিবুড়ি হতে যাচ্ছ, এই তো!’ মাতা হাসিয়া বলিলেন, ‘তা বুড়ো তো হয়েছি বাবা। এইবার তোর জিনিস তুই নে। আমি আর যখের ধন আগলাতে পারিনে।’ জাহাঙ্গীরও তরল হাসি হাসিয়া বলিল, ‘অর্থাৎ যক... | false |
shorotchandra | নিরানন্দও ত অদৃষ্টে লেখা থাকতে পারে। কমল কহিল, এই অন্ধকার নির্জন পথে একলা আপনার পাশে বসে ঊর্ধ্বশ্বাসে কত দূরেই না বেড়িয়ে এলাম। আজ আমার কি ভালই যে লেগেছে তা আর বলতে পারিনে। অজিত বুঝিল কমল তাহার কথায় কান দেয় নাই,—সে যেন নিজের কথা নিজেকেই বলিয়া চলিতেছে। শুনিয়া লজ্জা পাইবার মত হয়ত সত্যই ইহাতে কিছুই নাই, তবুও প্রথমটা সে যেন... | false |
humayun_ahmed | তখন তার চোখের দিকেই প্রথম তাকাই। তারপর তার মুখ দেখি, মাথার চুল দেখি। এক ফাঁকে সে কী কাপড় পরে এসেছে তা দেখি। যদি আমরা তার চোখ থেকেই দৃষ্টি ফিরিয়ে নেই তা হলে চোখ ছাড়া লোকটির আর কিছুই দেখা হয় না। চোখ থেকেই দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবার ব্যাপার কখন ঘটবে? তখনই ঘটবে যখন লোকটির চোখের তীব্র বিকর্ষণী ক্ষমতা থাকবে। চোখ কখন বিকর্ষণ করে? যখ... | false |
shottojit_roy | হয়। তা হলে আপনাকে বলে দিই–আপনি এই ম্যাক্সওয়েল ছাকরাটির উপর একটু দৃষ্টি রাখবেন। ওর ব্যবহার আমার মাথায় দুশ্চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়েছে। নিশ্চয়ই রাখব। লজে ফিরে এসে আরও দুজনের সঙ্গে আলাপ হল—তাদের কথা এই বেলা লিখে রাখি। এক–মিস্টার নস্কর। ইনি কলকাতার একজন নাম-করা ধনী ব্যবসায়ী। ইনি আগেই দুটোর সময় নিজের গাড়িতে এসে পৌঁছেছেন। দুই–জ... | false |
shunil_gongopaddhay | জানি! আমার তো কিছুই মনে পড়ছে না! কাকাবাবু আবার চুপ করে আকাশের দিকে চেয়ে রইলেন। সন্তু আর কফি খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করতে সাহস পেল না। প্যান্ট-শার্ট ছেড়ে সন্তু একটা পাজামা আর পাঞ্জাবি পরে নিল। তারপর ঘুরে দেখতে গেল সারা বাড়িটা। অন্য দু খানা ঘরের মধ্যে একটা ঘরে তালা বন্ধ, অন্য ঘরটি খোলা। সেটার দরজা ঠেলে সন্তু দেখল, ঘরটি বেশ বড়... | false |
shottojit_roy | যাওয়া রেসের বই।–চল, দারোয়নের সঙ্গে একবার কথা বলে বেরিয়ে পড়ি। আবার মেঘ করল! ব্যাগটা কি ফেরত দেবেন? জিজ্ঞেস করলেন লালমোহনবাবু। অবিশ্যি। কোন হাসপাতালে আছে খোঁজ করে কাল একবার যাব। আর সে-লোক যদি মরে গিয়ে থাকে? সেই অনুমান করে তো আর তার প্রপার্টি আত্মসাৎ করা যায় না। সেটা নীতিবিরুদ্ধ। —আর সাঁইত্রিশ টাকায় ব্লু-ফক্সে তিনজনের চ... | false |
shordindu | করিয়া বলিল—এইখানে অঙ্গার চুল্লী রচনা কর। জম্বুকের আদেশে ভৃত্য আসিয়া অঙ্গার চুল্লী রচনায় প্রবৃত্ত হইল। এই অবকাশে ইতস্তত পদচারণা করিতে করিতে চিত্ৰক লক্ষ্য করিল, কক্ষশ্রেণী যেখানে শেষ হইয়াছে সেখানে একটি বংশনির্মিত নিঃশ্রেণি বক্রভাবে ছাদসংলগ্ন হইয়া রহিয়াছে। তাহার মন আবার সন্দিগ্ধ হইয়া উঠিল। ছাদে উঠিবার সিঁড়ি কেন? উপরে যদি ... | false |
toslima_nasrin | ইসলাম ও রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতা প্রতিরোধ মোর্চার মিছিল। ঈমান বাঁচাও দেশ বাঁচাও আন্দোলনের মিছিলের ব্যানারে লেখা তসলিমা নাসরিন সহ সকল ধর্মদ্রোহী ও নাস্তিক মুরতাদের ফাঁসি ও বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলাম বিরোধী এনজিওদের অপতৎপরতা বন্ধের দাবি। জামাতে ইসলামির মিছিলের ব্যানারে লেখা, আল্লাহ, রাসুলুল(সাঃ) ও ইসলাম অবমাননাকারী ধর্মদ্রোহীদের ... | false |
humayun_ahmed | তোমার চাচার বাড়ি থেকে কাউকে স্থায়ীভাবে এনে তোমাদের ফ্ল্যাটে রাখতে পার কি-না দেখ। তুমি কলেজে চলে যাবে, কাজের মেয়েদের হাতে এত ছোট বাচ্চা রেখে যাওয়া ঠিক না। আমি বললাম, সেই ব্যবস্থা করব। মহা আনন্দে আমি গোছগাছ শুরু করলাম। নতুন সংসার শুরু করতে যাচ্ছি সেই আনন্দেও আমি আত্মহারা। মা’র কঠিন বলয় থেকে হারুনের মুক্তিও অনেক বড় ব্যাপা... | false |
humayun_ahmed | হাঁটে। ব্যাপারটা কী? কে ওখানে, কে? যে অনুসরণ করছিল সে থেমে গেল। ফয়জুর রহমান সাহেব পুলিশি গলায় ডাকলেন, কাছে আসো। ভীত পায়ে মাথা নিচু করে কেউ একজন আসছে; কাছাকাছি এসে দাড়াবার পর তাকে চেনা গেল। পাংখাপুলার রশিদ। ফয়জুর রহমান সাহেব হাঁটতে শুরু করলেন। রশিদ পেছনে পেছনে মাথা নিচু করে আসছে। রশিদের এই এক অভ্যাস–তিনি যেখানে যান রশিদ... | false |
shirshendu | আপাতত ঢাকার পথে। সেখানে সে আত্মসমর্পণ করিবার পর কী হইবে তাহা ঠাকুর জানেন। ফাঁসি যদি নাও হয় যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর কি ঠেকানো যাইবে? লক্ষণ দেখিয়া বুঝিতেছি, তাহাকে বেশ কিছুদিন হাজতবাস করিতে হইবে। সে গেল এক কথা। তাহার উপর পুত্রের মতিগতি দেখিয়া বুঝিতেছি, সংসারধর্ম পালন করিবার বিন্দুমাত্র আগ্রহ তাহার নাই এবং অদূর ভবিষ্যতে হইবে... | false |
humayun_ahmed | চোখ বড় বড় করে বললেন, এই ফাজিল মেয়েটা কে? নীলু হাসিমুখে বলল, ফাজিল বলছেন কেন? খুব হাসোহাসি শুরু হয়ে গেল চারদিকে। রুবিনার খালা রেগেমেগে অস্থির। কয়েকবার বললেন, আজিকালিকার মেয়েগুলি এমন কেন? অনেকদিন পর রুবিনার গায়ে হলুদ উপলক্ষে আমরা খুব হৈচৈ করলাম। বিয়েটিয়ে এই জাতীয় অনুষ্ঠান আমার ভাল লাগে না। গাদাগাদি ভিড়। মেয়েদের লোক দেখান... | false |
shomresh | ওরা কী উদ্দেশ্যে আসা-যাওয়া করছে। জানতেন না? ডাক্তার বললেন, দেখুন মশাই, আমি চাইব পেশেন্টের প্রাণ বাঁচুক। ওরা হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইল, তখন দ্বিতীয় কোনও উপায় নেই এই গ্রাম থেকে বৃদ্ধ মানুষটাকে নিয়ে যাওয়ার, মনে হয়েছিল ভগবানই ওদের পাঠিয়েছেন। তা ছাড়া আমি তারিণীবাবুর গার্জেন নই যে, ঠিক করব কার সঙ্গে যাবে বা না যাবে। মৃত্যুপথয... | false |
zahir_rayhan | স্বপ্ন এঁকেছে মনে মনে। দুদিনের পরিচয়ে যাকে পেলে, তাকেই ভালবেসে ফেললে তুমি? ভালো বলেই ওকে আমি ভালবেসেছি। জাহানারার গলার স্বর তীব্র এবং তীক্ষ্ণ শোনালো কানে। কিন্তু ও যে ভালো এ কথা কেমন করে বুঝলে? ক’দিন ওর সঙ্গে মিশেছো তুমি? ওর কতটুকু তুমি জানো? ও একটা ঠগ হতে পারে, জোচ্চোর হতে পারে। তোমার ফুলের মতো পবিত্র জীবন নিয়ে হয়ত... | false |
shomresh | জায়গায় লাঠির ডগলায় কাকাতাড় য়ারা ছেঁড়া জামা পরে হাওয়ায় দুলছে। তেমনি একজন শুধু মাথায়, চোখমুখ আঁকা কালো হড়িটাই যা নেই, বালির ওপর উবু হয়ে বসে এক হাতের আড়ালে চোখের রোদ্দুরে ঢেকে ওদের দেখছে। মণ্টুর কথা শুনে একগাল হাসল বুড়ো, অ খোকাবাবু, তা-ই কও! এত চোরের আওন-যাওন বাড়ছে আজকাল যে চিনতে পারি না। কালকের ফলটা মিষ্টি ছিল? হ্যাঁ, খু... | false |
shottojit_roy | মধ্যে আছে। সাবাটিনি ধরা গলায় বলল, সোনা তৈরির ফরমুলা আছে তোমাদের কাছে? নিশ্চয়ই। না হলে তৈরি হয় কী করে? ক্রোল বলল, আমাদের তো একদিন না একদিন দেশে ফিরে যেতে হবে; তখন তো আমাদের এই অভিজ্ঞতার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। তোমাদের অন্তত একজন প্ৰাণীকে কি আমরা সঙ্গে নিয়ে যেতে পারব না? অল্প কয়েক দিনের জন্য? তারপর আবার তাকে ফেরত দিয়ে য... | false |
shordindu | হইতে স্ত্রী-প্রহরীর এলাকা আরম্ভ হইয়াছে। প্রহরিণীদ্বয় অর্জুনবর্মাকে উত্তমরূপে নিরীক্ষণ করিল, রক্ষীকে প্রশ্ন করিল, তারপর পথ ছাড়িয়া দিল। রক্ষী নীচেই রহিল, অর্জুনবর্মা সঙ্কীর্ণ সোপান দিয়া উপরে উঠিতে লাগিল। সোপান মধ্যপথে মোড় ঘুরিয়া গিয়াছে, মোড়ের কোণে অন্য একজন প্রহরিণী দাঁড়াইয়া আছে। তাহাকে অতিক্রম করিয়া অর্জুনবর্মা দ্বিতলে ... | false |
tarashonkor | হল। জীউটা বেরিয়ে গেলে খালাস পায়। তা কি সে সহজে যায়? অ্যানেক এতে আঁধারের মধ্যে কখন যে জীউটা বেরিয়ে গেল, তা বুঝতে পারলাম। —আটপৌরেদের একজন মরেছে—এই যে গো—বেশ নামটি। কিন্তু কিছুতেই মনে থাকে না। পাগল বললে–বিশ্বামিত্ত। –হ্যাঁ, হ্যাঁ। বিশ্বামিত্ত। ‘বিশ্বামিত্ৰ’ নামটি নসুর মনে থাকে না। বিশ্বামিত্রের বাবা যাত্রায় পালাগান দেখে ও... | false |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.